সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হরিজন (মুচি সম্প্রদায়)’র মানুষজন আজ আয় সংকটে দিনাতিপাত করছে। এর ফলে এ পেশার লোকজন হাড়িয়ে যাচ্ছে।
এক সময় গ্রাম গঞ্জের হাট বাজার কিংবা রাস্তার মোড়ের গাছ তলায়, সুই- সুতা, ছোট আলপিন, হাতুড়ি, চেপটা বাটাল,তিন টেং ওয়ালা লোহার জিনিস,যার উপর রেখে জুতা, চামড়াজাত পণ্য মেরামতের করতো মুচি। সু- গুলো রঙিন করতে বিভিন্ন রকমের লাল- কালোসহ রঙের বোতল সারি বদ্ধ সাজিয়ে বসে থাকতো মুচি, ক্রেতার আশায়। পাশেই রাখতো চেড়া পারা চামড়ার। এর পাশ দিয়ে পথচারী কিংবা স্থানীয়রা জুতা কিংবা ছেড়ে যা-ওয়া চামড়া চামড়াজাত পণ্য মেরামত করতে ছুটে আসতো মুচিদের দ্বারে। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন সেই চাহিদা কমে গেছে।
মানুষ এখন আর পুরনো জিনিস মেরামত না করে নতুন পণ্য কিনতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে এই সম্প্রদায়ের আয় অপ্রতুল হয়ে পড়েছে, অনেকেই পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন।
কথা হয় হরিজন (মুচি সম্প্রদায়)’র সুনীল রবি দাসের সঙ্গে তিনি বলেন,তেমন কামাই( ইনকাম) হয় না, প্রতি হাটে দুশো থেকে তিনশো টেকা হয়।এই টেকা দিয়ে সংসার চলে না।ধার দেনা লেগেই থাকে।
আমাদের সম্প্রদায়ের অনেক লোকজন আদি পেশা ছেড়ে, অন্য পেশায় জরাচ্ছে। আমি আর কোন কাজ জানি না,তাই বাধ্য হলেই এ কাজ করি। সরকারি বিজিডি,ফেয়ার প্রাইজ (১৫টাকা কেজি দর)’র চাউলসহ অনেক অনুদান আসে, কিন্তু আমাদের ভাগ্যে জুটে না। তিনি আরও বলেন সরকারিভাবে পুনর্বাসন বা বিকল্প প্রশিক্ষণ না পেলে আমাদের মতো লোকজন সামনের দিনে এ পেশায় টিকে থাকতে কঠিন হয়ে পড়বে।
পল্লী চিকিৎসক শামসুজ্জামান মাহমুদ বলেন, হরিজন (মুচি জনগোষ্ঠী)’র জন্য বিশেষ সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির সুযোগ করে দেওয়া সময়ের দাবি।
তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন,সকল মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শুধু হরিজন বা মুচি সম্প্রদায় নয়, যেকোনো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সম্প্রদায়ের কেউ যদি নির্দিষ্ট কোনো দাবি নিয়ে আবেদন করে, তা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
