বাংলাদেশের লাইফ লাইনখ্যাত ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ছোট বড় যানবাহনের চলাচল। মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ জুড়ে চলছে যানজটের তান্ডব। এ তান্ডবে ১০ মিনিটের পথ ৩ ঘণ্টায় অতিক্রম করাও কঠিন হয়ে ওঠেছে। মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে এ যানজট শুধু সীতাকুণ্ডের মানুষের জন্য নয়, দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের জন্যই অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে বললেও ভুল হবে না। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে অসহনীয় যানজট থেকে মানুষের মুক্তি মিলছেনা।
এ যানজট নিরসনে বার বার উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। দিন যতই যাচ্ছে জটিলতাও প্রকট হচ্ছে। এই যানজটে একদিকে যেমন অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বিপুল অর্থনেতিক ক্ষতিও হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে স্বাস্থ্য এবং মানসিক অবস্থারও। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশের বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত কন্টেইনার ডিপোর ট্রাক টার্মিনালের কারণে নিত্যদিনের যানজটে অস্থির হয়ে উঠেছে মানুষ। উপজেলার বাঁশবাড়িয়ায় সামিট, পাক্কা মসজিদ এলাকায় কেডিএস, কাসেম জুট মিলস বিএম ডিপো এবং ভাটিয়ারীর টোব্যাকো গেইট এলাকায় পোর্ট লিংক ডিপোসহ মহাসড়কের পাশেই গড়ে উঠেছে একাধিক কন্টেইনার ডিপো। ওই সব ডিপোতে প্রতিদিন শত শত কন্টেইনারবাহী গাড়ি ডিপোর প্রবেশ মুখ থেকে শুরু করে মহাসড়কের দুইপাশ দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে ব্যস্ততম মহাসড়কে নিত্য-যানজটে নাকাল হাজারো মানুষ। কন্টেইনার ডিপোগুলোতে গাড়ির রাখার ধারণ ক্ষমতা ২৫০-৩০০। প্রতিদিন গাড়ি আসে হাজারের উপর। ফলে ডিপোগুলোতে গাড়ি প্রবেশ করতে না পেরে মহাসড়ক দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। এতে করে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সারাদেশে পন্য আমদানি রপ্তানির এই ব্যস্ততম মহাসড়কে এমন কোন দিন নেই যানজট হচ্ছে না। ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে আটকে জনসাধারণ সীমাহীন দূর্ভোগ পোহালেও সমাধানের কোন পথই দেখা যাচ্ছে না। কেডিএস, বিএম ডিপো এবং পোর্টলিংক এ তিন কোম্পানির মালিকদের কাছে হাইওয়ে পুলিশও অসহায়। মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে তীব্র যানজট নিরসন বিষয়ে সীতাকুণ্ডবাসী একাধিকবার মানববন্ধন, সেমিনার, গোল টেবিল বৈঠক করেও এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাইনি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দুই লেইন থেকে চার লেইন করার পরও জনগন সুফল পাচ্ছে না। ভুক্তভোগী একাধিক গাড়িচালক জানান, মহাসড়কের এ অংশে প্রতিদিন ৩৫-৪০ হাজার গাড়ি চলাচল করে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকা অভিমুখে হাজারো গাড়ি যাত্রা করলে চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার সীতাকুণ্ডে যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হয়। তবে সড়কের পাশে থাকা শিল্প প্রতিষ্ঠানের গাড়িগুলোর কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে যায়।
এতে মহাসড়কের এই অংশে অব্যাহত যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনায় অনেকে হতাহত হচ্ছেন। হাইওয়ে পুলিশ জানান, ডিপোতে তাদের ধারণক্ষমতার চেয়েও অনেক বেশি পণ্যবাহী গাড়ি আসে। এসব গাড়ি ডিপোতে স্থান না পেয়ে মহাসড়ক দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে। এ কারণে যানজট হচ্ছে।
