ঘণ্টাখানেকেরও কম সময়ের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা। বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়কের পাশাপাশি আবাসিক এলাকা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও ছিল হাঁটু পানি থেকে কোমর পানির নিচে। এতে করে বর্ষার শুরু আগেই সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বিশেষ করে কর্মস্থলে যেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, চলমান জলাবদ্ধতা নিরসনের আওতায় বিভিন্ন খালে ও ড্রেনে দেওয়া বাঁধের কারণে টানা বৃষ্টিতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে জমে যায়। তবে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই পানি সরে যায়।
শনিবার ভোরে চট্টগ্রাম নগরীসহ আশপাশের এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। প্রথমদিকে টানা বৃষ্টি হলেও পরে থেমে থেমে হাল্কা বৃষ্টিপাত স্থায়ী ছিল সকাল ৯টা পর্যন্ত। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানিয়েছেন, শনিবার ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত রেকর্ড করা বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪৩ মিলিমিটার। এসময় ঘণ্টায় ৫০ মাইল বেগে বাতাস বয়ে যায়।
বৃষ্টিতে নগরীর বহদ্দারহাট, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বাকলিয়া, ডিসি রোড, চকবাজার, চান্দগাঁও, ফিরিঙ্গিবাজার, আলকরণ এলাকায় জলাবদ্ধতায় কোথাও কোমড়, কোথাও হাঁটু পর্যন্ত পানি ওঠে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই পানি জমে ছিল।
ছোট-বড় নালাগুলোর আবর্জনা অপসারণ না করায় সামান্য বৃষ্টিতেও এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ নগরবাসীর। সেইসঙ্গে বৃষ্টিতে দুই নম্বর গেইট থেকে মুরাদপুরের দিকে সড়কের দুইপাশ এবং জিইসি মোড়ের দিকে সড়কের বড় অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়াও ওয়ারল্যাস গেইট এলাকায়ও নালা উপচে হাঁটু পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে নগরের প্রবর্তক মোড় এলাকা। শুলকবহর, কাতালগঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন অলিগলিতেও হাঁটু পানি মাড়িয়ে পথ চলতে দেখা গেছে সেখানকার বাসিন্দাদের। এছাড়া বাদুরতলা, চকবাজার, কাপাসগোলা, পশ্চিম বাকলিয়া এলাকায় জলাবদ্ধতার পাশাপাশি আগ্রাবাদ সিডিএ, বাগমনিরাম, শুলকবহরে জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে।
আল ফালাহা গলি থেকে হাঁটু পানি ডিঙ্গিয়ে নগরীর দুই নং গেইট রাস্তায় আসা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের হোসেন আহমেদ স্কুল এন্ড কলেজের ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সীমা পাল বলেন, সকালে হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হওয়াতে বাসা থেকে বের হতে পারছিলাম না। আমার অভিভাবকরা আমাকে স্কুলে যেতে বারণ করেছিলেন। ক্লাস মিস হবে বলে স্কুলে যাই। কিন্তু বৃষ্টির গতি একটু কমতেই যেই না বের হলাম দেখি রাস্তায় হাঁটু পানি। এই বৃষ্টিতেই যদি এত জলাবদ্ধতা হয়, তাহলে সামনের দিনগুলোতে আমাদের কপালে যে কি আছে।
আলকরণের বাসিন্দা বাঁশখালীর একটি কলেজের শিক্ষক অয়ন দে বলেন, ‘বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় প্রায় এক হাঁটু পানি জমে যায়। সব নালার ময়লা পানি। কলেজে যাওয়ার জন্য বের হয়ে গাড়ি পাচ্ছিলাম না। পরে ফিরিঙ্গিবাজার থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত ১০০ টাকা ভাড়ায় অটোরিকশা ঠিক করে গিয়েছি।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি মোবারক আলী বলেন, ’৩০-৩৫ মিনিট টানা বৃষ্টি হয়েছে। এরপর হাল্কা বৃষ্টি। মাত্র ৪৫ মিলিমিটারের মতো বৃষ্টিতে শহরের অনেক এলাকায় পানি জমে গেছে। চাক্তাই খাল, মির্জা খাল, টেকপাড়া খালসহ আরও কয়েকটি খাল সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বেশি পানি উঠেছে। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের জন্য খালগুলোতে বাঁধ দেয়া হয়েছে। সেজন্য পানি যেতে পারেনি। বাস্তবায়নকারীরা বলেছেন, বর্ষার আগে বাঁধ খুলে দেয়া হবে। তখন আশা করি এই পরিস্থিতি থাকবে না।’
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এ প্রকল্পের আওতায় নগরীর বিভিন্ন খালের ভেতরের অংশে অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে জলকপাট ও প্রতিরোধ দেওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। খালে দেওয়া বাঁধের কারণে ব্যাপক জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছিলেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বাঁধ অপসারণের জন্য সময়ও বেঁধে দিয়েছিলেন। তবে বাঁধ সরেনি।

