পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চোরাচালান ও চামড়া পাচার প্রতিরোধে সীমান্তে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি)। সীমান্তে গরু প্রবেশ ঠেকানো থেকে শুরু করে ঈদের পর কুরবানির চামড়া পাচার রোধ—সব দিকেই বাড়তি নজরদারি ও টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ৪৩ বিজিবির জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আহসানুল ইসলাম । বেলা ১১ টায় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। রামগড় ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, ঈদ সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় গরু চোরাচালান এবং ঈদের পরে চামড়া পাচার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ পরিস্থিতি বিবেচনায় গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং সব বিওপিতে (বর্ডার আউট পোস্ট) সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। জোন অধিনায়ক আরও জানিয়েছেন, কুরবানির পশুর দেশীয় উৎপাদন এ বছর চাহিদা পূরণে যথেষ্ট। তাই পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গরু যাতে অনুপ্রবেশ না করতে পারে, সে জন্য সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। এতে দেশীয় খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং বাজারে কোনো অস্থিরতা দেখা দেবে না বলেও আশা প্রকাশ করা হয়। ঈদের পর কুরবানির চামড়া পাচারের সম্ভাবনাও মাথায় রেখে বিজিবি বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে। চোরাচালান রোধে রামগড় ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সীমান্তজুড়ে টহল ও চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
বিজিবি আরও জানিয়েছে, ঈদের ছুটিতে সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে উৎসব পালন করতে পারে, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা মাঠে সক্রিয় থাকবে। সীমান্ত নিরাপত্তা ছাড়াও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা ‘পুশইন’-এর ঘটনা বেড়েছে। এ নিয়ে রামগড় ব্যাটালিয়ন সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিবেশী দেশের সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে বলে জানায় বিজিবি। রামগড় ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের স্বার্থে সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর রয়েছে এবং ঈদ সামনে রেখে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপতৎপরতা যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান কাজ।
ঈদকে ঘিরে সীমান্তে বাড়তি সতর্কতায় রামগড় ব্যাটালিয়ন
শ্যামল রুদ্র, রামগড় (খাগড়াছড়ি)

