ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরীতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে চারটি রেস্তোরাঁয় হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সোমবার নগরীর দুই নম্বর গেইট বিপ্লব উদ্যানের সামনে থেকে ফিলিস্তিনের গাজায় হামলার প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইনকিলাব মঞ্চ ও হেফাজতে ইসলাম, পাঁচলাইশ শাখার উদ্যেগে ‘মার্চ ফর গাজা’ ব্যানারে পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। পরে খণ্ড খণ্ড মিছিলগুলো একসঙ্গে হয়ে বিপ্লব উদ্যান থেকে ফিলিস্তিনের পক্ষে স্লোগান দিয়ে মিছিল শুরু করে।
জানা গেছে, সোমবার সকাল ১১টা থেকে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে নগরে ২৫টিরও বেশি স্থানে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা ও পদযাত্রা কর্মসূচি হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), হেফাজতে ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ছাত্র ও যুবসেনা, মহসিন কলেজের শিক্ষার্থী, সরকারি কমার্স কলেজ ছাত্রশিবির, অল স্টুডেন্টস ইউনিটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ফিরোজশাহ তৌহিদী জনতা, সাধারণ জনতা, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইনকিলাব মঞ্চ, হেফাজত ইসলামের পাঁচলাইশ থানা শাখা এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) এর ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।
জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নগরের দুই নম্বর গেট বিপ্লব উদ্যানের সামনে থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইনকিলাব মঞ্চ ও হেফাজত ইসলামের পাঁচলাইশ থানা শাখার উদ্যোগে পৃথকভাবে খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ মিছিল জিইসির দিকে রওয়ানা হয়। এতে সাধারণ মানুষসহ হাজারেরও বেশি শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে মিছিলটি নাসিরাবাদ অতিক্রম করার পরই সানমার ওশান সিটি শপিংমল সংলগ্ন কেএফসি রেস্তোঁরার সামনে থেমে যায়। ততক্ষণে শিক্ষার্থী ও নাগরিক পার্টির মিছিল সামনে এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে কেএফসি লক্ষ্য করে মিছিল থেকে জুতা ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে রেস্তোঁরার সামনের অংশের কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তবে ভেতরে কেউ ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একটু পরেই কেএফসি রেস্তোঁরা থেকে কয়েক মিটার সামনে থাকা ‘ডোমিনোজ পিৎজা’ নামক আরেকটি প্রতিষ্ঠানে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়। এ সময় ওই প্রতিষ্ঠানের ভবনেও ইট-পাটকেল ছুঁড়ে কাঁচ ভেঙে ফেলা হয়। যদিও প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে জিইসি মোড়ে সেন্ট্রাল প্লাজা মার্কেট সংলগ্ন একটি রেস্তোঁরায় সেভেন আপের সাইনবোর্ড ভাঙচুর করেন মিছিলকারীদের একাংশ। সেই সময় সেন্ট্রাল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় থাকা বাটা শো-রুমে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এতে দোকানের সামনের গ্লাস ভেঙে যায়। তবে শো রুমটির গ্লাসের পেছনের শাটার নামানো থাকায় মিছিলকারীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিছিলটি অগ্রসর হয়ে জিইসি মোড় ঘুরে ফের দুই নম্বর গেটের দিকে রওয়ানা হয়। এ সময় মোড়ে থাকা পাঁচলাইশ ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শকের কার্যালয়ের উপরের একটি রেস্তোঁরার ‘কোকাকোলা’র সাইনবোর্ডে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। ওই প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট একজন হাতজোড় করে ভাঙচুর না করার অনুরোধ জানালেও ভাঙচুরকারীরা শোনেননি। ইট-পাটকেলের আঘাতে ওই ভবনের কাঁচও ভেঙে পড়ে যায়। এরপর সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর মিছিলটি দুই নম্বর গেট গিয়ে শেষ হয়।
এদিকে, একই সময়ে নগরের লালখানবাজার মোড়ে জার্মানভিত্তিক বিশ্বখ্যাত স্পোর্টস ব্র্যান্ড ‘পুমা’র শো-রুমে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে ইসরায়েলবিরোধী মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ। এ সময় ওই ভবনে থাকা ‘ফ্রাই গাইস’ নামক বাংলাদেশি মালিকানাধীন একটি রেস্তোঁরাও ভাঙচুর করা হয়।
এরপর সন্ধ্যার দিকে নগরের কোতোয়ালী থানার চেরাগী মোড় এলাকায় ‘ডোমিনোজ পিৎজা’ এবং ‘কেএফসি’ রেস্তোঁরা ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানিয়েছেন, আনুমানিক ৫০ জনের একটি মিছিল থেকে হঠাৎ করেই এই দুই প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোঁড়া হয়।
মিছিল থেকে কয়েকজন যুবক গিয়ে একপর্যায়ে একটি নাশতার দোকানে থাকা পেপসিকো ব্র্যান্ডের ‘অ্যাকুয়াফিনা’ পানি ফেলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। কিছুক্ষণ পরেই ওই দোকান থেকে পানির কেইস বের করে সেগুলো সড়কে নিক্ষেপ করতে থাকেন ওই যুবকরা। সেই সময় ঘটনাস্থলে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অনেক পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে মিছিল থেকে হামলাকারীদের শনাক্ত করা গেছে কি না কিংবা তারা কোনো গোষ্ঠির কি না এমন প্রশ্নের জবাবে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উপ-পুলিশ কমিশনার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মাহমুদা বেগম বলেন, ‘আমরা ওরকম কিছু পাইনি এখনো। খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিষয়টি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জোনের উপ-কমিশনার বলতে পারবেন।’
ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে কি না, জানতে চাইলে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোতোয়ালী থানায় একজন আটক আছে এ ঘটনায়। তবে নাম-পরিচয় কিংবা বিস্তারিত এখনই জানাতে পারছি না।’
এদিকে, হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় নগর পুলিশের জনসংযোগ শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাহমুদা বেগম একজনকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করলেও কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম জানিয়েছেন, ‘ওই ঘটনায় কেউ আটক নেই’।
গাজায় গণহত্যা : চট্টগ্রামে কেএফসি-কোকাকোলাসহ বিদেশি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর
অনলাইন ডেস্ক

