দুই বছর পর চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলী খেলার ১১৩তম আসরে নানা নাটকীয়তার ফাইনালে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন কক্সবাজারের চকরিয়ার জীবন বলী। সোমবার বিকালে প্রায় ২৭ মিনিট ধরে চলা ফাইনালের দুই প্রতিযোগী শাহজালাল ও জীবন কেউ প্রতিপক্ষের পিঠ মাটিতে লাগাতে পারেননি। তাই পয়েন্টের হিসেবে ৩:০ ব্যবধানে চকরিয়ার তারেকুল ইসলাম জীবনকে জয়ী ঘোষণা করেন রেফারি।
আর এর মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালে কুমিল্লার শাহজালালের কাছে হারানো শিরোপা আবারও নিজের করে নিলেন জীবন। সেবারও কেউ কারো পিঠ মাটিতে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত পয়েন্টের হিসাবে ৩:১ ব্যবধানে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল শাহাজালালকে।
চট্টগ্রামের বাইরের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ৭২ জন বলী বা কুস্তিগীর এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসেন। দুপুরের পর থেকেই লড়াই দেখতে হাজারো দর্শক জড়ো হন লালদিঘী মাঠের আশেপাশের সড়কে।
গতবারের চ্যাম্পিয়ন শাহজালাল ও রানার আপ জীবনসহ আটজন সরাসরি অংশ নেন চ্যালেঞ্জ রাউন্ডে, বাকিরা প্রথম রাউন্ড থেকে লড়াইয়ে নামেন। দুপুরে খেলার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। আর ফাইনাল শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী।
বলী খেলার এবারের আসরে চ্যালেঞ্জ রাউন্ডে জয়ী হয়ে জীবন, শাহজালাল, খাগড়াছড়ির সৃজন চাকমা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার মুবিন সেমিফাইনালে ওঠেন।
সেমিফাইনালে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে চকরিয়ার তারেকুল ইসলাম জীবন বাঁশখালীর মুবিন বলীকে পরাজিত করে ফাইনালে উঠেন। অপর সেমিফাইনালে সাত মিনিট খেলার পর শাহজালালের কাছে পরাজয় মেনে নেন খাগড়াছড়ির সৃজন চাকমা।
জীবন-শাহজালাল ফাইনাল ছিল নানা নাটকীয়তায় ভরা। খেলা শেষ হতে সময় নেয় ২৭ মিনিট। টান টান উত্তেজনার ওই সময়টায় কেউ কাউকে ছাড়েনি। প্রতিযোগিতার মধ্যে যুক্ত হয় দর্শকদেরও উত্তেজনা।
১৯ মিনিট খেলা চলার পর প্রধান রেফারি আব্দুল মালেক ৩:০ পয়েন্টের ব্যবধানে জীবনকে জয়ী ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু তখন শাহজালাল এর বিরোধিতা করেন। দর্শকরাও এ রায় মেনে না নিয়ে চিৎকার শুরু করে দেয়। তখন আয়োজকদের পক্ষ থেকে পাঁচ মিনিট সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয় জয়-পরাজয় নিশ্চিত করতে।
ওই পাঁচ মিনিটেও জয় নিশ্চিত না হওয়ায় আয়োজকরা বিচারের ভার দেন প্রধান অতিথি ও সিটি মেয়র এম রেজাউল করিমের কাছে। সিটি মেয়র ওই সময় বিচারকদের সাথে আলোচনা করে আরও তিন মিনিট অতিরিক্ত সময় দেন।
ওই তিনি মিনিটেও কেউ যখন প্রতিপক্ষের পিঠ মাটিতে ছোঁয়াতে পারল না, রেফারি ৩:০ পয়েন্টের ব্যবধানে জীবন বলিকে বিজয়ী ঘোষণা করলেন।

