জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৬ আসামিসহ ৬০ জনের ফাঁসি কার্যকরকারী আলোচিত জল্লাদ ‘শাহজাহান ভূঁইয়া’ মারা গেছেন।
সোমবার (২৪ জুন) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শাহজাহানের বোন ফিরোজা বেগম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফিরোজা বেগম জানিয়েছেন, তার ভাই বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকার অদূরে হেমায়েতপুরে বসবাস করছিলেন। রবিবার রাতে তার বুকে ব্যথা শুরু হলে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তিনি মারা যান। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে আটক হওয়ার আগে ও পরে শাহজাহানের বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি অস্ত্র মামলা, একটি ডাকাতি মামলা এবং ৩৪টি হত্যা মামলা।
বিচারকাজে বিলম্বের কারণে ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত শাহজাহান সাজা ছাড়াই হাজতি হিসেবে কারাগারে থাকেন। ১৯৯৫ সালে তার ১৪৩ বছরের সাজা ঘোষণা করা হয়, যা পরে ৮৭ বছরের সাজা মাফ করে ৫৬ বছরের কারাদণ্ডে কমিয়ে আনা হয়। ফাঁসি কার্যকর ও সশ্রম কারাদণ্ডের সুবিধার কারণে সেই সাজা ৪৩ বছরে নেমে আসে।
দুটি মামলায় পাঁচ হাজার টাকা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাস করে অতিরিক্ত এক বছর জেল খেটে অবশেষে ৩২ বছর পর ২০২৩ সালের ১৮ জুন মুক্তি পান শাহজাহান। জানা গেছে, সাজার মেয়াদ কমানোর বাসনায় তিনি জল্লাদ হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং একের পর এক অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন।
শাহজাহান ভূঁইয়া ১৯৮৯ সালে সহযোগী জল্লাদ হিসেবে গফরগাঁওয়ের নূরুল ইসলামকে ফাঁসি দিয়ে তার জল্লাদজীবনের সূচনা করেন। তার যোগ্যতা দেখে আট বছর পর ১৯৯৭ সালে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে প্রধান জল্লাদের আসন দেয়।আলোচিত ডেইজি হত্যা মামলার আসামি হাসানের ফাঁসিও তিনিই কার্যকর করেছিলেন। জল্লাদ শাহজাহান দেশের সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ফাঁসির প্রধান জল্লাদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

