চার দফায় অধিবেশন মুলতবি, ইমরানের দলের সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দায়ের, বিকেলে সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদের ইমরান খাঁনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, অনাস্থা ভোট হওয়া নিয়ে চরম উৎকন্ঠা, দুই দলের সাংসদদের তুমুল হট্টগোল, মারমুখী অবস্থান, এক পর্যায়ে সংসদের নিম্ন কক্ষ পরিষদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার যথাক্রমে আসাদ কায়সার ও কাসিম সূরির পদত্যাগ সহ নাটকের কোন কিছু অবশিষ্ট ছিলো না আজ পাকিস্তানের পার্লামেন্টে। এতোকিছুর পরেও শেষ রক্ষা হলোনা ইমরান খাঁনের।চতুর্থবার অধিবেশন মুলতবির পর পুনরায় রাত দশটায় অধিবেশন শুরু করে স্পিকার আসাদ কায়সার বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খাঁনকে পদচ্যুত করার বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ তিনি হতে পারবেন না,তাই তিনি পদত্যাগ করছেন।ডেপুটি স্পিকার কাসিম সূরিও একই পথ অবলম্বন করলে স্পিকারের আসনে বসেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ(এন) এর আয়াজ সাদিক।তখন পিটিআই সাংসদরা তুমুল হট্টগোল শুরু করলে বিরোধী সাংসদরাও প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন।চরম অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় পার্লামেন্টজুড়ে।এক পর্যায়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে স্পিকারের আসনে বসা আয়াজ সাদিক অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোট আহবান করেন।পাকিস্তানের স্থানীয় সময় তখন রাত এগারোটা দশ মিনিট।উপস্থিত দুই পক্ষের সাংসদেরা ভোটদানে অংশ নেওয়া শেষে গননা শুরু হয় রাত একটায়।এক সময় বিরোধী পক্ষে ১৭৪ ভোট গননায় নিশ্চিত হলে উল্লাসে ফেটে পড়েন বিরোধী সাংসদেরা।তখনও কিছু ভোট গননা বাকি ছিলো।কিন্তু কে আর সেই গননার অপেক্ষা করে? ১৭২ ভোট পেলেই যেখানে ইমরান খাঁনের বিদায় ঘন্টা বেজে যায় সেখানে ১৭৪ গননায় নিশ্চিত হলেই শুরু হয় উৎসব। কিছুক্ষণের মধ্যেই সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খাঁন হেলিকপ্টারে চেপে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন।

