শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

নারী এগিয়ে গেলে পরিবার সমাজ দেশ এগিয়ে যাবে : জিনাত আজম

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : লিপি বড়ুয়া
- Advertisement -
Single page 1st Paragraph

জিনাত আজম চট্টগ্রামের নারী সমাজের এক প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সংগঠক ও সমাজসেবক। নারী উন্নয়ন, নারী জাগরণ ও পিছিয়ে পড়া নারীদের আলোর পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অপরিসীম। তিনি দীর্ঘ সময় সাধারণ সম্পাদিকা ও সভানেত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রাম লেডিস ক্লাবের। একই সঙ্গে তিনি পালন করছেন চট্টগ্রাম লেখিকা সংঘের সভানেত্রীর দায়িত্ব। লেখালেখি ও সমাজসেবায় চট্টগ্রামের নারীদের সংগঠিত করে তাঁদের একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছেন। নারীদের মধ্যে মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, দেশাত্মবোধ ও মূল্যবোধ সৃষ্টিতে তিনি পথিকৃতের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। দেশের উন্নয়নে এবং নারীদের কল্যাণে নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি মনে, নারী এগিয়ে গেলে পরিবার সমাজ দেশ এগিয়ে যাবে।
সাহিত্যিক জিনাত আজম-এর জন্ম ১৬ মে। তিনি ছোটবেলা থেকে শ্রদ্ধেয় পিতার অনুপ্রেরণায় লেখালেখি শুরু করেন। ভ্রমণ কাহিনী, ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও রম্যরচনায় তিনি স্বতঃস্ফূর্ত ও সাবলীল। তিনি চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, চমেক রোগী কল্যাণ সমিতি, চক্ষু হাসপাতাল, চট্টগ্রাম প্রগ্রেসিভ ট্রাস্ট, মহিলা ইসলামী পাঠাগারের প্রাক্তন সম্পাদিকাসহ বহু প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত রয়েছেন। বিভাগীয় সমাজ কল্যাণ সংস্থার সমাজসেবা স্বর্ণপদক, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী স্বর্ণ পদক, রত্নগর্ভা মা স্বর্ণপদক, চট্টগ্রাম লেডিস ক্লাব ও লেখিকা সংঘ সম্মাননাসহ বেশকিছু পদকে ভূষিত হয়েছেন। তিনি ইংল্যান্ড, জার্মানি, কানাডা সিঙ্গাপুর, নেপাল, মালয়েশিয়া, ভারত ও সৌদিআরব ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ।
জিনাত আজম দুই পুত্র ও এক কন্যার জননী। তাঁরা সবাই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত এবং প্রতিষ্ঠিত। স্বামী মরহুম আলী আজম খান ছিলেন উচ্চপদস্থ ব্যাংক কর্মকর্তা। বড়ছেলে আতিক খান ও তার স্ত্রী ফারহানা তেহসীন সাহিত্য চর্চার সাথে জড়িত। সমাজসেবা সাহিত্যচর্চা দেশভ্রমণ ও বাগান করা তাঁর শখ।


জিনাত আজম এর সাথে কিছু অন্তরঙ্গ আলাপে উঠে এসেছে তাঁর সাহিত্যচর্চা সমাজসেবা দক্ষ সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন ও পরিবার এবং সন্তানদের সুগঠিত সুশিক্ষিত করার গল্প। লেখালেখির সঙ্গে কিভাবে যুক্ত হলেন এ বিষয়ে জিনাত আজম বলেন- ‘আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়ি তখন থেকে আমার লেখালেখির শুরু। সে সময় একটি স্কুল ম্যাগাজিন বের হচ্ছিল। আমাকে একটি লেখা জমা দিতে বলা হলো। আমার প্রথম লেখা রম্য রচনা- ‘ইয়ে দিয়ে ঝকমারি ‘ ইয়ে কথাটা আমরা কথার মধ্যে তখনই ব্যবহার করি যখন আমাদের কোনো একটা লেখা মনে থাকে না। আমরা এভাবেই বলি ইয়ে আর কি….মানে ইয়েটা…মূলত এটার উপর ভিত্তি করে লেখাটা লিখেছিলাম। সে সময় লেখাটা বেশ আলোচিত হয়েছিল। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন লেখাটা তুমি লিখেছ? নাকি কেউ লিখে দিয়েছে? আমি বললাম আমিই লিখেছি ম্যাডাম। সেই থেকে শুরু আমার সাহিত্যচর্চা। বাবা আমাকে একটি খাতা বানিয়ে দিয়েছিল লেখালেখির জন্য। সেটাতে আমি লিখতাম। দুঃখের বিষয় যুদ্ধের সময় খাতাটি হারিয়ে যায়। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর আমার বিয়ে হয়ে যায় যেহেতু পাঁচ বোনের মধ্যে আমি বড় ছিলাম। তখন আমার লেখালেখিতে কিছুটা স্থবিরতা আসে। সংসার, পড়াশোনা সন্তান লালন পালন করতে করতে অনেক বেলা পেরিয়ে গেল। ১৯৮০ সালে আমি লেডিস ক্লাবের সদস্য হলাম। তখন লেডিস ক্লাব থেকে ‘ প্রয়াস’ একটি ম্যাগাজিন বের হবে আমাকে লেখা দিতে বলা হলো। আমি লিখলাম রম্যরচনা ‘চোখ সমাচার’। সেই থেকে আবার শুরু হলো সাহিত্য চর্চা। ফাহমিদা আপার সাথে পরিচয় হলো। লেখিকা সংঘের মেম্বার হলাম। লেডিস ক্লাবে তখন সেক্রেটারি ছিলেন হোসনে আরা আজাদ। তিনি আমাকে আলাদা করে ডেকে নিয়ে আমার রম্য লেখার বেশ প্রশংসা করলেন। বললেন রম্য রচনা তো তেমন কেউ লিখে না ফাহমিদা আমিন লিখে। তোমার লেখা ভীষণ ভালো হয়েছে। নতুন মেম্বার হয়ে একটা লেখা দিলাম সেটার খুব প্রশংসা করছে এটা অনেক বড় প্রাপ্তি। যে কোনো প্রশংসা শুনলে সবাই যেমন খুশি হয় আমিও খুব খুশি হলাম অনুপ্রাণিত বোধ করলাম। তিনি আমাকে ম্যাগাজিন সম্পাদনার দায়িত্ব দিলেন।’
লেখালেখি ও বই প্রকাশ নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘একদিন গীতশ্রী চৌধুরী আমাকে কল করেন। তিনি তখন বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ‘অনন্যার প্রডিউসার এর দায়িত্বে ছিলেন। আমাকে দেখা করতে বললো। দেখা করলাম এক বছরের একটি কন্ট্রাক্ট সাইন করলাম। ১২ মাসে ১২ টি রম্য লিখলাম। চাপ ছিলো বলে লিখেছি। তাই চাপ থাকা ভালো। আসলে আমি একটু অলস। আমি জয়েন পরিবারে থাকতাম সবাইকে খুশি রাখা ও আমার অভ্যাস ছিল। সুতরাং সব সামলে লেখায় যতটুকু সময় দেয়া যায় তাই লিখতাম। কিন্তু একজন লেখকের প্রতিদিন কিছু না কিছু লেখা উচিত সেটা ফাহমিদা আপা করতেন। এটা ভালো অভ্যাস। এই পর্যন্ত আমার প্রকাশিত বই এর সংখ্যা ৪ টি। ১ রম্যগ্রন্থ “আমি তেলাপোকা বলছি’ ২। ছোটগল্প সংকলন ” অন্য আলোয় অন্য ভূবন’ ৩। ভ্রমণ কাহিনী “অন্তরে বাইরে অনিকেত প্রান্তরে’ ৪। রম্যগ্রন্থ ‘নজর আলীর সাতকাহন।’
লেখালেখিতে সম্পৃক্ত হওয়ার পেছনে কার অনুপ্রেরণা সবচেয়ে বেশি এ প্রসঙ্গে জিনাত আজম বলেন, ‘ আসলে কেউ আমাকে তেমনভাবে লিখ সেটা তো বলেনি আমি নিজের স্বভাবগত তাগিদে লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছি। আমি প্রচুর বই পড়তাম সৈয়দ মুজতবা আলীর বই পড়তাম ক্লাস নাইন থেকে। আবুল খায়ের, মুজতবা আলী, মোসলে উদ্দীন, আবদুল শুকুর, শিবরাম চক্রবর্তী, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় সহ আরো অনেক লেখকের বই পড়েছি এই মুহূর্তে সবার নাম মনে করতে পারছিনা। তখন যত পত্রিকা বের হতো সব পড়তাম যেমন রহস্য পত্রিকা ঝিনুক, বিচিত্রা, যায়যায়দিন, এমনকি স্কুলে মুড়ি চানাচুর কিনে খেলে সেই টোংগায় কি লেখা সেটাও পড়ে দেখতাম। ওয়াশরুমেও বই নিয়ে যেতাম। মূলত বই পড়া আমার লেখালেখির মূল অনুপ্রেরণা।
অভিভাবকদের কন্যা সন্তানের যথাযথ যত্ন নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার প্রথম সন্তান কন্যা। দুই ছেলে আমার। যদি তিনটি সন্তান মেয়ে হতো তাহলেও আমার কোনো দুঃখ ছিল না। আমার মেয়ে দূরে থেকেও নিয়মিত আমার খোঁজ খবর নেয় সেটা আমি খুব ফিল করি। আমার ছেলেরাও ভীষণ ভালো। তারা আমার যতœ নেয়। কন্যা সন্তান বাবা মায়ের জন্য আশীর্বাদ। আমি নিজেকে দিয়ে বুঝি পায়ের নীচের মাটি আগে শক্ত হতে হবে। কখন কি বিপর্যয় আসে মেয়ে যে সারাজীবন সুখে থাকবে এমন নাও হতে পারে। নানাবিধ সমস্যা হতে পারে স্বামীর চাকরি না থাকতে পারে। অসময়ে স্বামী মারা যেতে পারে। জীবনের প্রতিটি মূহুর্ত অনিশ্চিত তাই কন্যা সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারলে মিনিমাম শিক্ষায় শিক্ষিত করা অভিভাবকদের কর্তব্য। এই বোধটুকু তৈরি করে দেওয়া উচিত তোমারটা তোমাকে করতে হবে। সবসময় অন্যের পকেটে হাত দেয়া তো কেমন খারাপ দেখায়। আগের দিনে বলা হতো মেয়েরা লতা গাছ তারা জড়িয়েই উঠে। এই কথাটা এখন অসার। এখন যে সময়, যে সামাজিক অসঙ্গতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি চারিদিকে নানা অবক্ষয় নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে এসব থেকে বাঁচতে হলেও একটি মেয়েকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। আমার যদি নুন্যতম শিক্ষা না থাকে তাহলে নিজের সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো। কিভাবে পরিবারকে সুসংগঠিত করবো।
বেগম রোকেয়া নারী পুরুষের সমতার কথা বলতে গিয়ে বলেছেন গাড়ির দুটি চাকার মধ্যে যদি একটি চাকা বড় হয় আর একটি চাকা ছোট হয় তাহলে গাড়িটা কখনোই ভালোভাবে চলবে না। এই কথাটি শতভাগ সত্যি বলে আমি মনে করি।
তাই অভিভাবকদের পুত্র সন্তানের মতো কন্যা সন্তানকেও যথাযথ যত্ন শিক্ষা দিয়ে তৈরি করতে হবে।
নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার মানসিকতাকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? এ বিষয়ে জিনাত আজম বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই রয়েছে। তবে এটার পজিটিভ নেগেটিভ দিক রয়েছে। অনেকে প্রয়োজন নেই তারপর ও বাইরে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় সন্তান পরিবারকে অবহেলা করে এটা ঠিক নয়। সন্তান বিপথগামী হলে বাবা মা একজন আরেকজনকে দোষারোপ করে তখন আর সতর্ক হওয়ার সময় থাকে না। স্বাবলম্বী হতে গিয়ে এরকম সমস্যা যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নিজের আত্মপরিচয়ের জন্য মেয়েরা স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। মেয়েদের একটু বুদ্ধিমানও হতে হয়। কিভাবে সবকিছু ম্যানেজ করতে হবে সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
আপনি দীর্ঘদিন লেডিস ক্লাবের দায়িত্বে ছিলেন এখন লেখিকা সংঘের দায়িত্বে আছেন। এই দুই জায়গায় কাজের অভিজ্ঞতার সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি তো সোশ্যাল ওয়ার্ক করি কখনো নাম পদ পদবী এগুলো নিয়ে ভাবতাম না শুধু কাজ করার মানসিকতা পোষণ করতাম। লেডিস ক্লাবে ৬ বছর জয়েন্ট সেক্রেটারি ১৫ বছর সেক্রেটারি ২৪ বছর প্রেসিডেন্ট এর দায়িত্ব পালন করেছি। লেখিকা সংঘে ১৫ বছর সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলাম গত দু’মাস হলো আনোয়ারা আপা অনেকটা জোর করেই আমাকে সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। লেডিস ক্লাবের ¯েøাগান ছিল ‘বিনোদনের ফাঁকে সমাজসেবা’। আমি যখন দায়িত্ব নিলাম কথাটা একটু উল্টো করে দিয়ে করলাম ‘সমাজ সেবার ফাঁকে বিনোদন’। লেডিস ক্লাবের রয়েছে ফ্রী ক্লিনিক, বালিকা সদন, এতিমখানা, ছাত্রী বৃত্তি, এবং গরীব অসহায় সুবিধা বঞ্চিত নারীদের পাশে দাঁড়ানো। লেখিকা সংঘের কথা যদি বলি সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিনা। সৃজনশীল নারীদের নিয়ে কাজ এখানে। সাহিত্য চর্চা নিয়ে আলোচনা, বিনোদন, সাংস্কৃতিক আড্ডা। নারীদের প্রাণ খুলে কথাবলার প্ল্যাটফর্ম। খুবই ভালো লাগে উপভোগ করি নারীদের এভাবে এগিয়ে যাওয়া। আমি মন থেকে চাই নারীরা অনেক দূর এগিয়ে যাক।
লেখালেখি এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে পরিবার থেকে কেমন সহযোগিতা পেয়েছেন? এ বিষয়ে জিনাত আজম – আমি বিয়ের ১০ বছর পর আমি লেডিস ক্লাবে যুক্ত হলাম। লেখিকা সংঘে যুক্ত হলাম আরো বিভিন্ন সংগঠন এর সাথে সম্পৃক্ত হয়েছি। সব কাজে আমি আমার স্বামী সন্তানদের যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছি। আমার প্রকাশিত লেখা আমার স্বামী পড়তো এবং খুব প্রশংসা করতো। তখন পত্রিকায় লেখা পাঠানো এখনকার সময়ের মতো সহজ ছিলো না।আমার স্বামী নিজে গিয়ে অথবা পিয়নকে দিয়ে লেখাগুলো সব জায়গায় পৌঁছে দিতো। আমার ছেলে মেয়ে বৌমারা সবাই আমার লেখা পড়ে প্রশংসা করে। আমার বড় বৌমা ফারহানা তেহসিন একজন মেধাবী লেখক। তার চারটি বই প্রকাশিত হয়েছে। মেয়েদের ঘরের পরিবেশ অনুকূল থাকলে বাইরে কাজ করা অনেক সহজ তাই খেয়াল রাখতে হবে ঘরে যেন শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকে। আমার এতদূর আসা এভাবে সোশ্যাল ওয়ার্কিং করা এটা পরিবারের সাপোর্ট না থাকলে সম্ভব হতো না।
মূলত পরিবারই আমার সকল অনুপ্রেরণার উৎস।
নারীদের একটি নিজস্ব পরিচয় গড়ে তোলার মানসিকতাকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? এ বিষয়ে তিনি বলেন, আশাপূর্ণা দেবীর লেখা ৩ টি বই এর একটি সিরিজ ১। প্রতিশ্রুতি ২। সুবর্ণলতা ৩। বকুলকথা এই বইগুলো নারীদের অবমূল্যায়ন নারীর আত্মপরিচয় তৈরি করার লড়াই নারীর প্রতি নানা বৈষম্য নিয়ে লেখা। বইগুলো প্রত্যেক মেয়ের পড়া উচিত। সুবর্ণলতা গল্প নিয়ে নাটক তৈরি হয়েছে অনেকে হয়তো দেখেছেন। সুবর্ণলতা লেখালেখি করতো এটা নিয়ে তার স্বামী শাশুড়ি খুব অপমান করতো। একদিন রাগে অভিমানে সে তার অনেকগুলো লেখা পুড়িয়ে দেয়। কিন্তু সে লেখার নেশা ছাড়তে পারে না। একসময় সে খুব অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তার মেয়ে মায়ের লেখা সংগ্রহ করে একটি বই ছাপায়। মায়ের হাতে সে বইটা তুলে দিয়ে বলে মা এটা সুবর্ণলতার বই তোমার বই। তখন সে বই এ হাত রেখে বলে কে এই সুবর্ণলতা? তাহলে দেখো কিভাবে নারীদের স্বপ্নের মৃত্যু হয়। প্রতিভা বাধাগ্রস্ত হয়। তাই নারী তার আত্মপরিচয় গঠনে সচেতন থাকতে হবে। এখন সময় পাল্টে গেছে। নারীরা শিক্ষায় সংস্কৃতিতে অনেক এগিয়েছে। এখন সবান মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। নারীকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করার বোধ তৈরি করতে হবে।
আগে নারীদের লেখার সুযোগ ছিল হাতেগোনা কয়েকটি পত্রিকায় যেমন – দৈনিক আজাদী, দৈনিক পূর্বকোণ, বেগম, অনন্যা, লাবণ্য, বান্ধবী। আর এখন তো প্রচুর পত্রিকায় লেখার সুযোগ আছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা পোস্ট করা যাচ্ছে। বিভিন্ন নারী সংগঠনে নিজের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে। আর পেছন ফিরে তাকানোর কিছু নেই। যার যা প্রতিভা আছে তাই নিয়ে নিজের আত্মপরিচয় সুদৃঢ় করতে হবে।
এই সময়ে এসেও অনেক সময় নারীদের সাহিত্যচর্চা সৃজনশীলতা নারীর অর্জনকে কটুক্তির মুখে পড়তে হয় সে বিষয়ে জিনাত আজম বলেন, পুরুষ যেমন মানুষ নারীও মানুষ। পুরুষ ছাড়া নারী যেমন সম্পূর্ণ নয় তেমনি নারী ছাড়াও পুরুষ সম্পূর্ণ নয়। সুতরাং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থেকে নিজ নিজ কাজ করে যেতে হবে। ঘরে বসেও এখন অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আমি বলবো যেসব নারী পারিবারিক সমস্যার কারণে হয়তো বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারে না তারা ঘরে বসে কাজ করতে পারে তাহলে সবদিক রক্ষা করা সম্ভব। নারীদের বড় একটি দায়িত্ব থাকে সন্তান মানুষ করা। সেটাও যতেœর সাথে করতে হবে। নারী বলে সে তো প্রতিভা শূন্য নয় তাকে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিতে হবে। নারী যা পারে পুরুষ কখনো পারে না আবার পুরুষ যা পারে নারী তা পারে না। তাই এখানে কিন্তু আলাদা করে ভাবার বা দেখার কোনো সুযোগ নেই। আর কে কি বললো তাতে কি বা এসে যায়। নিজের কাজের মধ্যে নিয়োজিত থেকে এগিয়ে যেতে হবে। আমার নিজের কথা যদি বলি তাহলে বলবো অনেক পুরুষ লেখক আমার প্রশংসা করছে হয়তো অনেকে সমালোচনাও করেছে কিন্তু আমি ভালোটা গ্রহণ করেছি মন্দটা এড়িয়ে চলেছি। একদিন গবেষক আশরাফুল হক, আবদুল হক স্যার আমাকে কল করে বললেন লেখা কিন্তু কখনো ছাড়বে না।আমি বেশ উৎসাহিত হতাম কথাগুলো শুনে। এখন অনেক পথ তৈরি হয়েছে যার যা সুপ্ত প্রতিভা আছে তাই নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। নারী এগিয়ে গেলে পরিবার সমাজ দেশ এগিয়ে যাবে।
একজন প্রতিভাবান মানুষ প্রকৃতির মতোই স্নিগ্ধ সুন্দর সরল মনের মানুষ রম্যসাহিত্যিক দক্ষ সংগঠক জিনাত আজম। তার সাথে অন্তরঙ্গ আলাপে উঠে এসেছে নারীদের নিয়ে নানা আলোচনা। যেভাবে তিনি সংসার পরিবার সন্তান সামাজিকতা সব সামলিয়ে নিজের একটি পরিচয় গড়ে তুলেছেন ঠিক তেমনি বাংলার প্রতিটি নারীর একটি আত্মপরিচয় গড়ে উঠুক। সকল নারী ভালো থাকুক এটাই তিনি মনে প্রাণে কামনা করেন। সম্মান শ্রদ্ধা ভালোবাসায় প্রতিটি নারীর জীবন সুন্দর নিরাপদ আনন্দময় হোক এটাই প্রত্যাশা করেন।

এই বিভাগের সব খবর

বৈষম্যহীন উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার : প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলসহ সারাদেশে বৈষম্যহীন উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক...

বোয়ালখালীতে হাম-রুবেলা টিকা পাবে ২৭ হাজার শিশু

জেলার বোয়ালখালীতে ২৭ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা (এম.আর) টিকাদানের লক্ষ্যে উপজেলা কো-অর্ডিনেশন সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে এই সভায় প্রধান...

জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ...

সর্বশেষ

বৈষম্যহীন উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার : প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ...

বোয়ালখালীতে হাম-রুবেলা টিকা পাবে ২৭ হাজার শিশু

জেলার বোয়ালখালীতে ২৭ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা (এম.আর) টিকাদানের লক্ষ্যে...

জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দুর্নীতি...

ফটিকছড়িতে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুকুরে পানিতে ডুবে সাফওয়ান (৪) নামের এক...

স্বাধীনতা পুরস্কার হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৫...

‘এলেক্স’ ইমন হত্যা: ছয় আসামি ৪ দিনের রিমান্ডে

ঢাকার মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ‘এলেক্স গ্রুপের’ হোতা ইমন ওরফে...