রাঙ্গামাটি হয়ে বান্দরবানে যাতায়াতের জন্য একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা কর্ণফুলী নদী। কাপ্তাই অংশেও চন্দ্রঘোনার যানবাহন পারাপারের মাধ্যম সওজ এর ফেরি। ওই নদীতে বালুচর উঠায় আটকে যায় ফেরিটা। নদীর ভাটা সময়ে ফেরি চলতে বেশী বিঘ্ন ঘটে। জানা যায়, কর্ণফুলী রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই’র তীরের নদীর দু’পারের লোকজনের দীর্ঘ সময়ের দাবী ওই সেতুর।
সওজ জানায়, ৫৫০ মিটার একটি সেতুর প্রস্তাব দিয়েছে। সেতু বিভাগের ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইং (বিএমডব্লিউ) এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। চলতি বছর এর ৬মাসের ভিতর শেষ হতে পারে বলে জানান প্রধান প্রকৌশলী। রাঙ্গামাটি থেকে বান্দরবান চলাচলের একমাত্র সড়ক একটিই, যেখানে রাঙ্গুনিয়া চন্দ্রঘোনা ফেরি মাধ্যমে কর্ণফুলী নদী দিয়ে খাগড়াছড়ি থেকে রাঙ্গামাটি হয়ে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি লোকজন বান্দরবানে যেতে হয়। ওই পথে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হয়। নদীতে সেতু হলে চন্দ্রঘোনায় শিল্পেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে মনে করেন তারা। এই ঘাট থেকে দৈনিক ৪/৫শ যানবাহন পারাপার হয়ে থাকে। রাঙ্গামাটির-রাজস্থলী ও বান্দরবানে যেতে হয়। নদীতে সেতু হলে রাঙ্গামাটি ছাড়াও রাঙ্গুনিয়ার লোকজনেরা সুফল পাবেন। সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রী, এমপি ও নেতা এবং সড়ক বিভাগ দীর্ঘদিন আশ্বস্ত করে আসলেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয় বলে স্থানীয়রা জানান। নদীতে থাকা ‘লক্কর-ঝক্কর’ ফেরিটিও হঠাৎ হঠাৎ হয়ে পড়ে। ওই সময় নদীতে থাকা যাত্রীদের পারাপারের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে নাব্যতা সংকট, অনিয়মিত ফেরি চলাচল আর বর্ষা মৌসুমে ফেরিতে ওঠানামার ক্ষেত্রে পানির জন্য দুর্ভোগ পড়তে হয়।
বিএমডব্লিউ সূত্র জানিয়েছে, নদীতে সেতু হওয়ার সময় নদীর গতিপথ ও পানিপ্রবাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়। তা ওদিকে নজর দিতে হবে। বিবেচনায় বিএমডব্লিউ চন্দ্রঘোনা সেতু নির্মাণের জন্য বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। ভৌগলিকভাবে সেতুটির অবস্থান পর্যটন জায়গা পড়ায় সেতুর কাজ নান্দনিক করার জন্য বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবে সেতুটির দৈর্ঘ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রকল্প বড় হওয়ায় সেতুর কাজে সময় ক্ষেপন হচ্ছে। কর্ণফুলীর নাব্যতা কমে আসায় ফেরি চলাচল প্রায় সময় বিঘ্নিত হয়। ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি লোকমান কন্ট্রাক্টর বলেন, প্রতিদিন রাঙ্গামাটি-বান্দরবান রুটে বান্দরবান পর্যন্ত চারটি ও রাজস্থলী উপজেলা পর্যন্ত ১৫টি যাত্রীবাহী বাস যাতায়াত করে থাকে। তবে সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, মালবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য যান চলাচলের জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অনুমান, প্রতিদিন ৫/৬শত ছোট-বড় গাড়ি ফেরি দিয়ে পারাপার হয়। চালকরা জানান, কর্ণফুলী নদীতে চন্দ্রঘোনা ফেরি পারাপারে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পর্যটক ও যাত্রীবাহী বাস, মালামাল পরিবহন ট্রাকসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহন পারাপারে ফেরিটিই একমাত্র সম্বল। ফেরী নির্মাণের প্রসঙ্গে সওজ রাঙ্গামাটি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ‘কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী নদীতে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সওজের ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। যেহেতু কর্ণফুলী নদীতে জোয়ারভাটা ও স্রোত আছে, তাই সেখানে সেতু নির্মাণ করতে গেলে কিছু কারিগরি বিষয়কে বিবেচনায় নিতে হবে। সেতু নির্মাণের পদ্ধতি ও প্রযুক্তিসহ সেতুর নকশা ও যাবতীয় বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করছে বিএমডব্লিউ। তবে কর্ণফুলী সেতু নির্মাণ হলেও সেটি হয়তো আলাদাভাবে প্রকল্প নিয়ে করা হবে। কর্ণফুলী নদীতে বাধাগ্রস্ত না করার দিকেই সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান। তিনি বলেন, সেতুর কাজটি বড় প্রকল্প। তাই বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। শিগগিরিই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে।

