আজ ১৮ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ইরানে চালানো পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চারজন শিশু সহ অন্ততঃ ৯ জন নিহত হয়েছেন।আহত হয়েছেন চল্লিশ জন।মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।এর আগে গত ১৬ জানুয়ারী মঙ্গলবার পাকিস্তানে চালানো ইরানের হামলায় নিহত হয়েছিলো দুই জন। কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়ে তাঁদের একটি লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,১৯৮৮ সালে ইরাক ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো ইরানের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটল।
দুই দেশের এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ তাদের অবস্থান জানিয়েছে।পাকিস্তানে হামলা চালানোয় নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।এটি প্রত্যাশীতই ছিলো।গুঞ্জন আছে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধনেই ঘটনাটি নিয়ে পাকিস্তান এতো মাতামাতি করছে।যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের কড়া সমালোচনা করেছে।তাঁরা বলেছে,ইরান গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি দেশে হামলা চালিয়েছে। সবশেষ তারা পাকিস্তানে হামলা চালায়।মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার সাংবাদিকদের বলেছেন,একদিকে ইরান সন্ত্রাসবাদের মদদ দিচ্ছে, অন্যদিকে তারা সন্ত্রাসবাদ দমনে এসব পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করছে। পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত চীন এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে।দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সাংবাদিকদের বলেছেন,আমরা দুই পক্ষকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানাই।উভয় দেশকে চীন এ অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আসলে দুই দেশের মধ্যে শান্তি ও স্বাভাবিকতা ফিরে আসুক এটি এশিয়ার দু’চারটি বাদে সকল দেশেরই কাম্য।বৈশ্বিক বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন দেশের মানুষই স্বস্তিতে নেই।এখন পাকিস্তান ও ইরান যদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে বৈশ্বিক পুরো প্রেক্ষাপটই বদলে যেতে পারে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে পাকিস্তানের প্রতিবেশী দেশ ভারতও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন,এটা পাকিস্তান ও ইরানের ব্যাপার।আমরা বুঝতে পারছি নিজ দেশের প্রতিরক্ষার জন্য দেশগুলো পদক্ষেপ নেয়।আর ভারত বরাবরই শান্তির পক্ষে। সূত্র:- আল-জাজিরা,এপি ও রয়টার্স।
