শুরুটা করেছিলো ইরান জঙ্গী দমনের লক্ষ্যে প্রথমে ইরাক,তারপর সিরিয়া আর সর্বশেষ পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে হামলা করে।ইরাক ও সিরিয়া বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া না দেখালেও রীতিমতো ভয়ংকর প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে পাকিস্তান। যদিও ইরান ও পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় কয়েকটি জঙ্গি দলের সক্রিয় অবস্থান স্বীকৃত সত্যি।একইভাবে ইরান যে জঙ্গিগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে,সেই গোষ্ঠী এর আগে ইরানে হামলার দায়ে অভিযুক্ত ছিলো। অতীতে একাধিকবার ইরানের উপর হামলা চালিয়েছিল সুন্নি জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ আল আদল।তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তেহরানের পক্ষ থেকে পাক সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল।কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেয়নি ইসলামাবাদ।তারই জেরে বেলুচিস্তানে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে দাবী ইরানের।তবুও পাকিস্তান এটা স্বাভাবিক ভাবে নেয়নি।
প্রথমে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে ইরান থেকে প্রত্যাহার, পাকিস্তান থেকে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার,কুটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা,তারপর ইরানের ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা করে বসলো পাকিস্তান।খবর এএফপি ও জিও নিউজের। ইরানের হামলার পর নিজেদের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত বলে অভিযোগ করে ইসলামাবাদ বলেছিলো, এর ফল মারাত্মক হবে।এর কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতে ১৭ জানুয়ারী দিবাগত মধ্যরাতে আকাশ পথে ইরানের উপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান।অযুহাত হিসেবে ইরানের মতোই “তেহরানের মদদপুষ্ট জঙ্গি শিবির লক্ষ্য করে হামলা” চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের পাল্টা হামলায় পরিস্থিতির আরও অবনতির আশংকায় বিশ্ব সম্প্রদায়।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি।তারই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষ বাড়িয়েছে উদ্বেগ।এবার ইরানের হামলার পর পাকিস্তানের পাল্টা আঘাত নতুন করে যুদ্ধপরিস্থিতি তৈরি হল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। পাক-ইরান সংঘাত নিয়ে মুখ খুলেছে চীন।শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য দুই দেশের প্রতি আর্জি জানিয়েছে বেইজিং।দুটো দেশের সাথেই চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সর্বজনবিদিত।

