প্রায় মাসখানেক শান্ত থাকার পর আবারও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া।১৪ জানুয়ারী দুই প্রতিবেশী জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া একথা জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ বলেছেন, রবিবার এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনাট ঘটেছে।তবে, এই ক্ষেপণাস্ত্র কত দূর পর্যন্ত উড়ে গেছে বা এ বিষয়ে অন্য কোনো বিস্তারিত তথ্য জানাননি তিনি। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে,তারা উত্তর কোরিয়ার একটি সম্ভাব্য ব্যালিসটিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার ঘটনা শনাক্ত করেছে।তবে তারাও অন্য কোনো বিস্তারিত তথ্য জানায়নি।
গত ১৮ ডিসেম্বর উত্তর কোরিয়া,তাদের সবচেয়ে আধুনিক অস্ত্রের অন্যতম, সলিড ফুয়েলে চালিত হোয়াসং-১৮ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিসটিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়।এর পর দেশটির পক্ষ থেকে এটাই প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা।হোয়াসং-১৮ ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্মাণ কৌশল এমন যে,এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। রবিবারের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কয়েকদিন আগে, দক্ষিণ কোরীয় সমুদ্রসীমার উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলে এক পশলা কামানের গোলা নিক্ষেপ করে উত্তর কোরিয়া। জবাবে দক্ষিণ কোরিয়াও বাধ্য হয়ে একই জায়গায় একই ধরনের সামরিক মহড়া পরিচালনা করে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উত্তর কোরিয়া তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো উত্তেজনাময় বক্তব্য দিচ্ছে।
সপ্তাহের শুরুতে দেশটির নেতা কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়াকে “আমাদের প্রধান শত্রু” বলে অভিহিত করেন এবং তারা কোনো উসকানি দিলে তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে বলে হুমকি দেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,খুব সম্ভবতঃ কিম আরো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে এই শত্রুভাবাপন্ন পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবেন।এর মধ্য দিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থার মাধ্যমে তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বাড়তি সুবিধা পেতে চেষ্টা চালাবেন।একইসঙ্গে এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচন ও নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করবেন কিম। ডিসেম্বরের শেষের দিকে ক্ষমতাসীন দলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কিম, তার ভাষায়,যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সংঘাতমূলক পদক্ষেপের মোকাবেলায়,তার দেশের পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডারকে আরো সম্প্রসারিত করার এবং বাড়তি গোয়েন্দা স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন।
সূত্র:-রয়টার্স ও ভয়েস অফ আমেরিকা।

