ভোয়ার সবগুলো সাক্ষাৎকার আপনাকে পড়তে হবে।স্লোগান পাঠকের জন্য সেই সকল সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে এনে সাঁজিয়েছি এই প্রতিবেদন।প্রতিবেদনটি তিন পর্বে আমরা নিয়ে আসবো আপনাদের কাছে আগেই বলেছিলাম।
এটি দ্বিতীয় পর্ব। আগামীকাল হতে যাওয়া নির্বাচনে অবশ্যই ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে যাবেন বলে জানিয়েছেন,বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক,ক্রীড়া সংগঠক, স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা রকিবুল হাসান। বিএনপি বিহিন নির্বাচন কতোটা অংশগ্রহণমূলক হবে দেশে-বিদেশে?এই প্রশ্নের উত্তরে রকিবুল হাসান বলেন, এটা তো বলার অপেক্ষা রাখেনা,বিএনপি একটি বড় দল। এবং তাদের কর্মী সমর্থন অনেক আছে।যদি তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করতো,গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতো,আমি মনে করি তাদের নির্বাচনে আসা উচিত ছিলো। আমি আমার নিরপেক্ষ বিচারে বুঝি,এবার যদি নির্বাচন করতো বিএনপি তাহলে অনেক সিট পেতো।তাদের ইচ্ছাতেই বিএনপি ছাড়া নির্বাচনটা হচ্ছে।এখন তারাই আবার অন্য পন্থা নিচ্ছে, ভোটারের কাছে লিফলেট দিচ্ছে ভোটে অংশগ্রহণ না করার আহবান জানাচ্ছে। ভোট দেয়ার অধিকার আমার আছে। আমাকে আপনি বাধ্য করতে পারবেন না। বিএনপি নাই, একটা বড় দল নাই। বিএনপি থাকলে এটা পূর্ণাঙ্গতা পেতো। গ্রহণযোগ্যতা সব দল থাকলে যেভাবে পেতো সেটা পাবেন না।বাট এটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে।গণতন্ত্রে ৫থেকে ১০শতাংশ ভোটও পড়ে ওটাই ডেমোক্রেসি।আর একটা কথা বলে রাখি সংবিধানে কোথাও নাই কত শতাংশ ভোট হলে সেটা জায়েজ হবে। ৫শতাংশ ভোটেও যদি কেউ মেজরিটি হয় দ্যাট ইজ লিগাল।
আগামী সংসদ কতদিন টিকে থাকবে,তিনমাস, ছ’মাস, এক বছর,পূর্ণমেয়াদ?এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট উত্তর দেন,এটা ৫ বছর টিকবে। “বিএনপি ছাড়া কিন্ত অনেকগুলো দলই এখানে পার্টিসিপেট করেছে।বিএনপিকে কিন্তু পার্টিসিপেট করতে সেভারেল টাইম বলা হয়েছে।ডাকাও হয়েছে। কিন্তু তারা যদি না আসে,একটা দেশে অনেকগুলো পলিটিক্যাল দল থাকে,এখন একটা দল যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তার জন্য যে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না এটা আমি অন্ততঃ বিশ্বাস করি না।আর গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে ভোটারদের অংশগ্রহণের উপর।”আমি মনেকরি,আন্দোলনের অংশ হিসেবে হলেও বিএনপির ভোটে অংশ নেওয়া উচিত ছিলো।বিএনপি ছাড়া নির্বাচন কতোটা অংশগ্রহণমূলক হবে প্রশ্নে উপরোক্ত মন্তব্য করেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা ক্রীড়া সংগঠক মাহফুজা আক্তার কিরন। অবশ্যই ভোট দিতে কাল কেন্দ্রে যাবেন জানিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ কতদিন টিকে থাকবে প্রশ্নের উত্তরে কিরন বলেন,পূর্ণ মেয়াদ। ভয়েস অফ আমেরিকার প্রশ্ন ছিলো,নির্বাচনে আমেরিকা ও ইইউর ভূমিকা কেমন ছিলো বলে মনে করেন?উত্তর দিতে গিয়ে বারবার আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারকে আক্রমন করে কথা বলতে থাকেন গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সদ্য সাবেক আহবায়ক রেজা কিবরীয়া। তিনি বলেন,আমরা এখনো পৃথিবীর অন্য দেশের উপরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাণিজ্য এবং রেমিটেন্সের দিক থেকে নির্ভরশীল । সুতরাং তাদের একটা প্রভাব তো পড়বেই।
তাদের মতামতকে কিছুটা দাম দিতে হবে।শেখ হাসিনা যতই নালিশ করে না কেন। তার তো ইচ্ছা এবং তার ছেলের ইচ্ছা যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে বসবাস করবে।কিন্তু এটা হয়তো হবে না। কারণ দেশ থেকে যারা লুট করে টাকা নিয়েছে তাদেরকে সেখানে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হয় না। এই জিনিসটা এতদিন পর উপলব্ধি করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। ভারতের ভূমিকা প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি মনে করি ভারতের মিক্সড ভূমিকা। কিছু লোক ভারতের যারা এখনো আওয়ামী লীগের সাপোর্ট করে যাচ্ছে। কিছু লোক বুঝতে পারছে জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে ভারত বিদ্বেষ বাড়বে আরও এদেশে। তারা এই সরকারকে ঠিক সেভাবে সাপোর্ট দিচ্ছে না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই সংসদ কত দিন টিকতে পারে প্রশ্নের উত্তরে রেজা কিবরিয়া বলেন,৭ ই জানুয়ারী আওয়ামী লীগের মরন ঘন্টা।হয়তো একদিন নয়তো তিন দিন এটা ধারণা করা কঠিন। কিন্তু তারা যে থাকবে না বেশিদিন এটা আমি গ্যারান্টি দিতে পারি। কারণ জনগণ এটা সহ্য করবেনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ বললেন,আমি খুবই পজিটিভলি এটা দেখি।বাংলাদেশ একটা গ্লোবাল ভিলেজে।বাংলাদেশ তো আর পৃথিবীর বাইরের কোন দেশ না।বাংলাদেশের গণতন্ত্র অর্থনীতিতে উনাদের কন্ট্রিবিউশন আছে।স্বাভাবিকভাবে দেশের ১৮ কোটি মানুষের যদি ভোটাধিকার হরণ হয় তাহলে পরাশক্তিরা আমাদের বিষয় কথা বলতেই পারে,এটা খুব স্বাভাবিক। ভারতের ভূমিকা প্রশ্নে পার্থ বলেন,আমরা প্রথম থেকেই বলে এসেছি ভারতের উপলব্ধিতে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ভাবনাটা আসা উচিত।কোন দলের সঙ্গে সম্পর্ক না করে বাংলাদেশের মানুষ যা বলে সেদিকে যাওয়া।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ভারত কেন যেন একটা নির্দিষ্ট দলের ব্যাপারে সব সময় আগ্রহী হয়। জাতীয় সংসদ কতদিন টিকতে পারে বলে আপনার ধারণা? পার্থর উত্তর,সেটা আমরা বলতে পারি না।সেটা একদিন টিকুক আর এক বছর টিকুক সেটা জনগণের সংসদ না। এটা নাটক।এখানে শুধুমাত্র সরকারের প্রশংসা ছাড়া আর কিছুই হবে না। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন সেখানে হবে না।জনগণের কথা সেখানে বলবে না। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার কথায় আমেরিকা ও ইইউর প্রতি বেশ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেলো।তিনি মনে করেন তাঁদের চাপের কারণেই দেশে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা সম্ভব হয়েছে। আমেরিকা ও ইইউর ভূমিকা প্রসঙ্গে মান্না বলেন,তাঁরা চেয়েছে বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য একটা ভালো নির্বাচন করতে।হয়তো তারা চাপও দিচ্ছে।এমন কোন চাপ তারা এখনো দেয়নি যেটা আমাদের অসম্মান হতে পারে। আমাদের ক্ষতি হতে পারে এমন কোনো চাপ দেখি না। তাদের এ চাপের কারণে দেশে যে শৃঙ্খলিত গণতন্ত্র ছিল তা অবারিত হয়েছে।কথাবার্তা বলা যাচ্ছে, মিটিং করা যাচ্ছে। ্যাবের ওপরে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরে ক্রসফায়ার বন্ধ হয়ে গে
নির্বাচন নিয়ে ভারতের ভূমিকা প্রশ্নে তিনি বলেন,এটা আমার কাছে অস্পষ্ট মনে হয়েছে।ভারতের ভূমিকা যে কি?তারা কি সরকারকে সমর্থন করছে? তাদের সাথে এতদিনকার যে সম্পর্ক তাতে তো মনে হয় তাদেরকে তো আসলে আওয়ামী লীগের সাথে কমফোর্টেবল থাকার কথা।স্পষ্ট তো তারা সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন সেটা দেখি না। আগামী সংসদের মেয়াদ কতোদিন হতে পারে প্রশ্নে সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন,এটা সংসদ হচ্ছে নাকি? এটা ক্রিটিক্যাল প্রশ্ন।সংসদ হলে নয় এই প্রশ্ন হতো। গায়ের জোরে কতদিন টিকতে পারে সেটা দেখতে হবে। যতদিন থাকতে পারে ততদিন এই সংসদ থাকবে। “অত্যন্ত দুঃখজনক ভারত আমাদের কাছের বড় প্রতিবেশী আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অস্বীকার্য।বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত ভালোবাসার সাথে ভারতের ভূমিকা লালন করে এবং ধারণ করে। এখন মনে হচ্ছে বাংলাদেশের সাথে তাদের (ভারতের )বন্ধুত্ব নয়।স্পেসেপিক আওয়ামী লীগের সাথে তাদের বন্ধুত্ব।বাংলাদেশের মানুষের সাথে তাদের বন্ধুত্বটা থাকুক এটা হয়তো ভারত চাচ্ছে না।ভারত চাচ্ছে হয়তো শেখ হাসিনা অথবা তার দলের সাথে বন্ধুত্ব থাকুক।আজ বাংলাদেশের সকল মানুষ উন্মুখ হয়েছিল গণতন্ত্রের প্রতি ভারত সমর্থন দিক।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ২০১৪ সালে নির্বাচনে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং এসে ইলেকশনটা করিয়ে নিল।তেমনি ভাবে ২০১৮ সালের ভারতের সহযোগিতায় নির্বাচন করিয়ে নিয়েছে।এবার তো বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে।এবং সমর্থনের ধরনটা কি বাংলাদেশের মানুষ বা বাংলাদেশের নির্বাচনে আমরা হস্তক্ষেপ করব না।বাংলাদেশের মানুষ যে শেখ হাসিনা ওয়াজেদ কে চায় না তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় সেটা জেনেও তারা আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে।” ভোয়ার ভারতের ভূমিকা প্রশ্নে উপরোক্ত মন্তব্য করেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল। আগামী সংসদের মেয়াদ কতোদিন হতে পারে প্রশ্নে কায়সার কামাল বলেন,২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৪ জন ব্যক্তি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়।১৫৪ জন শপথ নিল তারপরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন এটা সংবিধান রক্ষা নির্বাচন কয়েকদিন মধ্যে আমরা পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন করব।তখন ভারতের সহযোগিতায় বলেন আর যাই বলেন ২০১৪ থেকে আজ পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় আছেন। যদি ডেমোক্র্যাটিকস ভেলুস… তাহলে এরকম একটি ফারসিকেলি ইলেকশন স্থায়িত্ব বেশিদিন হওয়ার কথা নয়। (তৃতীয় পর্ব শীঘ্রই আসছে)
