ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসেম ব্রিগেডস জানিয়েছে,গাজার উত্তরাঞ্চলের আল-তুয়াম এলাকায় মেশিনগান দিয়ে লড়াইয়ে ইসরায়েলী স্পেশাল ফোর্সের অন্তত ১১ সেনা নিহত হয়েছেন।কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই খবর প্রকাশ করেছে। গত ২১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ম্যাসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে দেওয়া
এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।এনিয়ে গত তিন দিনে তাদের হামলায় ২৫ ইসরাইলি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে আল-কাসেম বিগ্রেডস।গত ২০ ডিসেম্বর মিশরে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ার পর পরই এই হতাহতের খবর জানানো হলো। গত ৭ অক্টোবরে শুরু হওয়া হামাস-ইসরাইল যুদ্ধে ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে বেশি।ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সংখ্যা ২০ হাজার ছুঁয়েছে। নিহতদের মধ্যে চার হাজার শিশু এবং ছয় হাজার ২০০ নারী রয়েছেন।এ ছাড়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ফিলিস্তিনের ৫৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।আর অগণিত মানুষ ধ্বংসত্তুপের ভেতর চাপা পড়ে গেছে।যার কোন সংখ্যা অজানা থেকে গেছে। এদিকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখন পর্যন্ত তাদের ১৩৭ সেনা নিহত হয়েছেন।তবে এ সংখ্যা অনেক বেশি বলে দাবি হামাসের।এছাড়া ইসরায়েলের হিব্রু ভাষার এক সংবাদমাধ্যম কয়েক দিন আগে এক প্রতিবেদনে জানায়,গাজায় যুদ্ধ করতে গিয়ে অন্তত পাঁচ হাজার সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।যাদের মধ্যে ৩ হাজার জনের হাত-পা গুরুতর জখম হয়েছে। অপরদিকে আল- জাজিরা আরেক খবরে জানিয়েছে,বুলডোজার দিয়ে গাজার একটি কবরস্থান গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলী সেনারা।বুলডোজার চালানোর পর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত থাকা অনেক লাশ বের হয়ে এসেছে।জীবিত মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে ক্ষান্ত থাকেনি তারা,মৃত মানুষদের ওপরও বর্ববতা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা।
বুলডোজারের আঘাতে অনেক মরদেহ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। আলজাজিরার প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা গেছে, সাদা কাফন পরানো একটি লাশ পড়ে আছে। ছবিটি দেখে বোঝা যাচ্ছে, লাশটি কয়েকদিন আগে সমাহিত করা হয়েছে।সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ছাড়াও শিশুদের লাশের অংশও কবরস্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। গাজায় স্থল হামলা শুরুর পর একাধিক কবরস্থানে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইসরায়েল।আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী,যুদ্ধের সময়ও সামরিক প্রয়োজনীয়তা ছাড়া ধর্মীয়স্থাপনা, সমাধিস্থল ও কবরস্থানের ক্ষতি সাধণ করা যাবে না।যদি প্রয়োজন ছাড়া এসব স্থাপনার ক্ষতি করা হয় তাহলে এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সূত্র:- আল – জাজিরা
