‘জয়বাংলা বাংলার জয়, “সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবন্য, অপূর্ব রূপসী রূপেতে অনন্য” “গেরিলা গেরিলা আমরা গেরিলা… এমনি অনেক দেশাত্মবোধক ও মুক্তিযুদ্ধের গানে ও কবিতার পঙক্তিতে বিজয়ের বার্তা নিয়ে নগরীর বিভিন্ন রাজপথে বিজয়ের বার্তা পৌঁছে দেয় বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রাম। শুক্রবার সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দিনব্যাপী ডিসি হিল মোড় সংলগ্ন, বড়পোল বঙ্গবন্ধু, কাজীর দেউড়ী মোড় ও সন্ধ্যায় চেরাগীপাহাড়ে এসে শেষ হয়। যেখানে ১৯৭১ এ সাধারণ মানুষের মুক্ত মনের উদারতার স্বপ্ন তুলে ধরা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনে আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, এ দেশ সকল ধর্মের সকল মানুষের ধর্মনিরপেক্ষতার একটি দেশের জন্য ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। যেখানে গণমানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি লালসবুজের স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। তবে এখনো দিকে দিকে হায়েনারডাক শোনা যায়। এখনো শকুনীর থাবায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে সোনার বাংলাদেশ। তাই স্বাধীন বাংলা এখনো হায়েনার কবল থেকে মুক্ত হয়নি। অতিথিরা আরো বলেন, ততদিন মানুষের মুক্তির সংগ্রাম কখনো শেষ হবে না, যতদিন সকল শ্রেণী বৈষম্যহীন মানুষের শোষণ নিপীড়ন বঞ্চণা মানুষের অধিকার নিগৃহীত হবে। বোধনের প্রশংসনীয় এ উদ্যোগ সকাল সাড়ে এগারোটায় শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধে সংগীতে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠ সৈনিক জয়ন্তী লালা’র কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গানে। এসময় কথায় অতিথি ছিলেন নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজী, নাট্যজন সুচরিত চৌধুরী টিংকু, লায়ন বাসুদেব সিনহা, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সদস্য আবৃত্তিশিল্পী সেলিম রেজা সাগর।
এরপর বোধনের শিশুবিভাগের দলীয় পরিবেশনা অজয় দাশগুপ্তের কবিতা থেকে গ্রন্থিত ” দেশকে ভালোবাসো” পরিবেশিত হয়। পথে পথে বিজয়-গাথা’র দ্বিতীয়পর্ব শুরু হয় বিকেল তিনটায় নগরীর বড়পোল মোড় সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু মুরাল চত্বরে। শুরুতে দলীয় সংগীত পরিবেশন করে ধ্রুপদ সঙ্গীত নিকেতনের শিল্পীরা। এরপর স্বরচিত কবিতাপাঠে অংশ নেন আমন্ত্রিত কবি ও সংগীতশিল্পী কেশব জিপসী,কবি উৎপল কান্তি বড়ুয়া,কবি জসীম মেহবুব, কবি সুপ্রতীম বড়ুয়া এবং কবি ও কথায় বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সদস্য আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান মাহফুজ। দেশের গানে ও কবিতায় নগরীর রাজপথ গণমানুষের ভীড়ে মুখর হতেই সেই রেশ থেকে যায় বিকাল পাঁচটায় নগরীর কাজীর দেউড়ী মোড় পর্যন্ত। এসময়
অতিথি ছিলেন মঞ্চমুকুটের দলপ্রধান নাট্যজন সুচরিত দাশ খোকনের। এরপর উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের শিল্পীদের একের পর গণসংগীতের পরিবেশনায় মুক্তির গানে জয় বাংলার সমৃদ্ধি পথ মসৃণ হয়ে ওঠে। বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রামের দিনব্যাপী জমজমাট এ আয়োজনে সূচিত হয় সন্ধ্যে ছয়টায় নগরীর চেরাগীপাহাড় মোড়ে। এখানে বোধনের আবৃত্তিশিল্পীদের পরিবেশনায় দলীয় প্রযোজনা ” মিছিলের রাজপথ ” ইতিহাস কালজয়ী মুহূর্ত মেলে ধরে। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, সাধারণের মানসপটে বাংলাদেশের আলোর রেখায় অন্ধকার ঘনীভূত হওয়ার আশংকায় গণমানুষের সোচ্চার হওয়ার এখনই সময়। এখনো ৭১’র পরাজিত শত্রুু দাঁত কেলিয়ে হাসে। এদের প্রতিহত করতে আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সংঘবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। বোধন সেই চেতনাটুকু ধারণ করে বলে এমন অনুষ্ঠানে সবসময় সুন্দরভাবে গণ মানুষের কাছাকাছি চলে যায়। চেরাগীপাহাড় মোড়ে বোধনের এ আয়োজনে অতিথি ছিলেন
কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক,আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান। এ পর্বে আবৃত্তি পরিবেশন করেন বোধন আবৃত্তি পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল চৌধুরী সোহেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বিপ্লব কুমার শীল, আবৃত্তিশিল্পী পলি ঘোষ, জসিম উদ্দিন, ডেইজি সেনগুপ্তা এবং ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দলের সদস্য আবৃত্তিশিল্পী জুহি সেনগুপ্তা। সবশেষে দেশের গান পরিবেশনায় যুক্ত হন “গান পোকা” সংগীতশিল্পীরা। তবে বর্তমান সময়কে ধারণ করে বোধনের শিশুদের বৃন্দ আবৃত্তি
দলীয় পরিবেশনায় উপস্থিত শ্রোতাদের সেই বার্তা পৌঁছে দেন। যন্ত্রানুসঙ্গে ছিলেন উৎপল কান্তি নাথ।
দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে বোধন আবৃত্তি পরিষদের সহসভাপতি সুবর্ণা চৌধুরী সমাপনী বক্তব্যে। পুরো আয়োজনের অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বোধন আবৃত্তি পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক গৌতম চৌধুরী ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক আবৃত্তিশিল্পী সঞ্জয় পাল।

