বিএনপি সমাবেশের নামে যা করেছে এগুলো কোন রাজনৈতিক দলের কাজ না, এটি সন্ত্রাসীদের কাজ। তাণ্ডব চালাতে সারাদেশ থেকে সন্ত্রাসীদের আনা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
রোববার (২৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শতাধিক যানবাহন পুড়িয়েছে, তারা আগের রূপে ফিরে গেছে। কুকুরের লেজ সোজা হয় না, বিএনপিও কখনও বদলায় না। এ ঘটনা তারই প্রমাণ । সরকার এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা দেইনি। আমরা আশা করবো বিএনপি তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে আসবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি শুধু জ্বালাও পোড়াও নয়, জালিয়াতিও করে। ইতিপূর্বে কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জাল করেছে। জো বাইডেনের উপদেষ্টা বলে চালানো চেষ্টা করেছে। আমেরিকার দূতাবাস বলে তিনি তাদের কেউ না। আমরা যে তথ্য পাচ্ছি ওনি ইসরায়েলের একজন এজেন্ট। সাংবাদিকের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কোন দলের পক্ষ হয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সেখানে যায়নি। এগুলোর বিচার হবে।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের কথা বলে, সমাবেশ ডেকেছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহায়তা করেছে। তারা সমাবেশ শুরুর আগেই প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা করেছে, ঢুকে পড়েছে। প্রধান বিচারপতির কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি নয়, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনও প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা হয়নি। অতীতে বিএনপির আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির দরজায় লাথি মেরেছে। তারা কোন কিছুকে তোয়াক্কা করেনি এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি পুলিশ হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে, গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। গাজায় হাসপাতালে বোমায় ৮০০ মানুষ মারার পর বিএনপি একটা টু শব্দ করেনি। তারা ইসরায়লি বাহিনীর অনুকরণে হাসপাতালে হামলা করেছে। তারা যখন তাণ্ডব শুরু করে, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাণ্ডব বন্ধের উদ্যোগ নেয়। প্রথমে নেতারা চলে যায়, পরে কর্মীরা চলে যায়।
রাজারবাগে পাকিস্তানি বাহিনী হামলা করেছিল, বিএনপিও হামলা করেছে। বেশিরভাগ পুলিশের মাথায় আঘাত করা হয়েছে। পেছনে কোপ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। এটির দায় নির্দেশ দাতাদের, তারা প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নেমেছিল। পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। এই ধরনের ঘটনা সরকার, জনগণ বরদাস্ত করতে পারে না। আমাদের দায়িত্ব জনগণের শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, নিহত শামীম মিয়াকে যুবদলের কর্মী বলে দাবি করেছে। এটি তাদের রাজনীতি মিথ্যাচার। সাধারণ পথচারীকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মনে অনেক ব্যথা বেদনা রয়েছে। অনেক সময় সভা সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। গ্রেনেড হামলা চালিয়ে অনেককে হত্যা করা হয়েছে। সব ভুলে তাদের সহায়তা দিচ্ছে সরকার।
হরতাল কেউ মানছে না, হরতাল একটি ভোতা অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। মানুষ হরতাল প্রত্যাখ্যান করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

