রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’র তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড কক্সবাজার, ৩ জনের মৃত্যু

- Advertisement -
Single page 1st Paragraph

কক্সবাজারের মহেশখালীতে  ঘূর্ণিঝড় হামুনের তাণ্ডবে বাড়ির দেওয়াল চাপা পড়ে ১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান।

এছাড়া স্থানীয়ভাবে আরও দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তার মধ্যে চকরিয়ার বদরখালীতে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে গাছ পড়ে আজগর আলী (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আর কক্সবাজার শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ঘরের দেওয়াল চাপা পড়ে আবদুল খালেক নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকার সমাজ কমিটির নেতা টিপু।

এদিকে কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম শুরু করছে ঘূর্ণিঝড় হামুনের মূল অংশ। এটি আরও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে পরবর্তী চার থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম শেষ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে এখন পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী।

এর মধ্যে কক্সবাজার শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ঘরের দেওয়াল চাপা পড়ে আবদুল খালেক, চকরিয়ার বদরখালীতে গাছ পড়ে আজগর আলী (৫০) এবং মহেশখালীতে বাড়ির দেয়াল চাপা পড়ে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

এদিকে, মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে ঘূর্ণিঝড়টির উপকূল অতিক্রম শুরু হয়। রাত ৯টার পর কক্সবাজার সদর উপকূলে ঝোড়ো বাতাসের তীব্রতা কমতে শুরু করে। অন্যদিকে মহেশখালী ও কুতুবদিয়াত ঝোড়ো হাওয়া ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ঝড়ে বেশ কিছু গাছ ভেঙে কয়েকটি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ, কিছু ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত, কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে সোমবার রাত থেকেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়। মঙ্গলবার সারাদিন বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। এ সময় হালকা বাতাস হলেও সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। এ সময় বৃষ্টিপাতও শুরু হয়। বাতাসের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, সড়কে চলাচল করা ইজিবাইকগুলো উড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এছাড়াও কাঁচা ও আধা কাঁচা ঘরবাড়ির চাল উড়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে অনেক ঘরের দেয়াল, উপড়ে গেছে গাছপালা।

এতে সড়কের উভয় পাশের ব্যাংক-বীমা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ছোট-বড় সাইনবোর্ড বাতাসের তোড়ে উপড়ে সড়কে পড়ে যায়। বিভিন্ন স্থান হতে টিনসহ হালকা পণ্যগুলো উড়ে একস্থান হতে অন্যস্থানে সরে যায়। সমানে ভেঙে পড়েছে গাছের ডালপালা। শহরের অনেক উপসড়কেও গাছ ভেঙে পড়ে জন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ঝড়ো বৃষ্টি শুরুর পর থেকেই বিচ্ছিন্ন রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।

কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ ইমাম উদ্দিন জানান, ‘হামুন’ আরও দুর্বল হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় সন্ধ্যায়। সন্ধ্যা ৭টার কিছু পরে ঝড়ো বাতাসসহ কক্সবাজারের উপকূল অতিক্রম শুরু করে এটি। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর ও মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৫ নম্বর বিপৎসংকেত এখনো বহাল রয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিভীষণ কান্তি দাশ বলেন, সন্ধ্যা সাতটার পর থেকে ঘূর্ণিঝড় হামুনের অগ্রভাগ কক্সবাজারসহ উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে বলে খবর পেয়েছি। শহরের মতো উপকূলের গ্রামের অনেক কাঁচা ঘরবাড়ির চালা, গাছপালা উপড়ে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে খবর পেয়েছি। পুরো অতিক্রম করা শেষ হলে বুধবার দিনের বেলা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সঠিক জানা যাবে।

এর বিকাল সাড়ে ৪টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড়টি রাতে দুর্বল হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারী (৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ অব্যাহত আছে।

এছাড়া প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদসংকেত কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদসংকেত নামিয়ে ৭ নম্বর বিপদসংকেত, পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদসংকেত নামিয়ে ৫ নম্বর বিপদসংকেত ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এছাড়া, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এর প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এই বিভাগের সব খবর

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত করার মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। তার আধুনিক ডিজাইন ও ফিজিবিলিটি স্টাডি কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে...

বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করাই যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার : সার্জিও গর

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সামগ্রিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রাধিকার। আজ...

সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী

সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ...

সর্বশেষ

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত করার...

বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করাই যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার : সার্জিও গর

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত সার্জিও...

সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী

সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে আগামী চার থেকে...

আইন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা জুলাই সনদের আলোকেই বাস্তবায়ন হবে : আইনমন্ত্রী

আইন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনাগুলো জুলাই সনদের আলোকেই বাস্তবায়ন হবে...

উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শন করলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে কক্সবাজারে...

ম্যান-মেড ফাইবার পোশাক: বৈশ্বিক বাজারের ১২ শতাংশ দখল করতে পারে বাংলাদেশ

নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পের সক্ষমতা উন্নয়ন...