দুই দেশের খ্যাতিমান সাহিত্যিক ড. পবিত্র সরকার পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিকদের অভিনন্দন জানিয়ে এবং প্রশ্ন রেখে বলেছেন, শিশুসাহিত্যিকরা যে শিশুদের নিয়ে মহৎ কাজ করছেন তাদের অবস্থা কি ভাল? পৃথিবীতে ছোটদের অবস্থা ভাল ছিল না, এখনও নয়। কবি কবিতা লিখেছেন, ‘শিশুদের বাসযোগ্য করে যাব আমি’। কিন্তু এখনও এ পৃথিবী শিশুদের বাসযোগ্য হয়ে ওঠেনি। একদিকে কিছু মানুষ শিশুদের ধ্বংস করার যুদ্ধে লিপ্ত অন্যদিকে শিশুসাহিত্যিকরা শিশুদের বাঁচানোর জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। তারা শিশুদের জন্য আনন্দময় পৃথিবী তৈরির কাজ করছেন। নষ্ট সমাজে মানসিক ঐশ্বর্যের মধ্য দিয়ে যাতে শিশুরা বেড়ে উঠতে পারে তার কাজটাই করে যাচ্ছেন শিশুসাহিত্যিকরা। এ কাজ খুব সহজ নয়। এটি অনেক বড় কাজ। তাই তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে আজ। শিশুরা আনন্দে বেড়ে উঠুক। আর কোন শিশু যেন রাসেলের মতো হারিয়ে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে শিশুদের এগিয়ে নেয়ার দৃপ্ত শপথে।
বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমির আয়োজনে শেখ রাসেল বইমেলা ও শিশুসাহিত্য উৎসব ২০২৩ এর দ্বিতীয় দিন আজ ১৪ অক্টোবর, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমি সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, গরবিনী চট্টগ্রাম সাহিত্য, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ইতিহাসে আশ্চর্য একটি জায়গা। এখানে একসঙ্গে সাহিত্য চর্চাকারীরা নিজেরা বেড়ে উঠছেন, পরস্পরকে জাগরিত করছেন, উজ্জীবিত করছেন, অসামান্য সৃষ্টিশীলতায় অনুপ্রাণিত করছেন। বিভিন্ন কীর্তিগাথা তুলে আনার ইতিহাস চট্টগ্রামেই হয়েছে। চট্টগ্রাম শিশুসাহিত্য ও সাহিত্যিকদের অনন্য এক জায়গা।
এতে সভাপতিত্ব করেন কবি-শিশুসাহিত্যিক তপংকর চক্রবর্তী। আলোচনায় অংশ নেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক সুজন বড়–য়া, কথাসাহিত্যিক বিশ^জিৎ চৌধুরী, কবি ও শিশুসাহিত্যিক ওমর কায়সার। সূচনা বক্তব্য দেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক অরুণ শীল।
অনুভূতি ব্যক্ত করেন সম্মাননাপ্রাপ্ত লেখক অজয় দাশগুপ্ত, ফারুক হোসেন, আহসান মালেক, কেশব জিপসী ও রমজান মাহমুদ।
সঞ্চালক ছিলেন বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী আয়েশা হক শিমু ও কবি রাশেদ রউফ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. পবিত্র সরকার সম্মাননাপ্রাপ্ত শিশুসাহিত্যিকদের হাতে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট, সনদ ও উত্তরীয় তুলে দেন। এছাড়া শিশুসাহিত্যিক উৎপলকান্তি বড়–য়া সম্মাননাপ্রাপ্তদের নিয়ে স্বরচিত ছড়া স্বহস্তে লিখিত শুভেচ্ছাস্মারক তুলে দেন। উপহার সামগ্রী তুলে দেন লায়ন রাজীব সিনহা ও অনন্যধারা পত্রিকা তুলে দেন সম্পাদক রুনা তাসমিনা।
সম্মাননাপ্রাপ্ত কবিদের কবিতা থেকে আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী সুবর্ণা চৌধুরী, দিলরুবা খানম, তহুরা পিংকি, প্রতিমা দাশ, হৈমন্তী তালুকদার।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় আমার ভাবনায় শেখ রাসেল (১ম পর্ব) বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রাবন্ধিক, কবি ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী। আলোচক ছিলেন ড. শ্যামল কান্তি দত্ত, ড. নারায়ন বৈদ্য, গাজী মোহাম্মদ নুরউদ্দীন, মো. জসীম উদ্দিন চৌধুরী।
বিকেল সাড়ে ৫টায় কবি ও ছড়াশিল্পী সৈয়দ খালেদুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় শেখ রাসেলকে নিয়ে ছড়া-কবিতা পাঠ। এতে অংশ নেন অজয় বড়–য়া, অপু চৌধুরী, অপু বড়ুয়া, আখতারুল ইসলাম, আনোয়ারুল হক নূরী, আবুল কালাম বেলাল, আয়েশা পারভীন চৌধুরী, এয়াকুব সৈয়দ, কানিজ ফাতিমা, কুতুবউদ্দিন বখতেয়ার, কোহিনুর শাকি, জুবাইর জসীম, সুবর্ণা দাশ মুনমুন প্রমুখ।
বিকেল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় শেখ রাসেল আবৃত্তি প্রতিযোগিতা (খ বিভাগ)।
রবিবারের অনুষ্ঠান
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় লেখক সম্মিলন (নতুন বইয়ের পাঠ উন্মোচন)
প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক; কালি ও কলম সম্পাদক অধ্যাপক সুব্রত বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি থাকবেন কথাসাহিত্যিক-সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, শিশুসাহিত্য প্রকাশক-সম্পাদক রূপা মজুমদার। সভাপতিত্ব করবেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, সাহিত্যিক এলিজাবেথ আরিফা মুবাশশিরা।
যাঁদের বইয়ের পাঠ উন্মোচন হবে : সজল দাশ, আজিজ রাহমান, ইসমাইল জসীম, লিপি বড়ুয়া, প্রদ্যোত কুমার বড়ুয়া, বনশ্রী বড়ুয়া, গৌতম কানুনগো। আলোচক থাকবেন সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার, এমরান চৌধুরী, জসিম উদ্দিন খান, কাসেম আলী রানা, সাঈদুল আরেফীন, আবুল কালাম বেলাল, বাসুদেব খাস্তগীর।

