‘ঘুড্ডি’ খ্যাত নির্মাতা সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকীকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তার মরদেহে নেওয়া হলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠন শ্রদ্ধা জানায়।
এ সময় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর এবং নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ছাড়াও সম্প্রীতির বাংলাদেশ, চিলড্রেন ফিল্ম সোসাইটি, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, নাট্যচক্র, ফেডারেশন ফিল্ম বাংলাদেশ নামের সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এ নির্মাতাকে দেখতে ছুটে আসেন অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা, আফসানা মিমি প্রমুখ। এ ছাড়াও তাকে পরিচালক সমিতির পক্ষে এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ, পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার, অপূর্ব রানা, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু প্রমুখ।
শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজা শেষে মরদেহ নেওয়া হয় আজিমপুর কবরস্থানে। সেখানেই বাবা-মায়ের কবরে গুণী এ নির্মাতাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৫৩ মিনিটে রাজধানীর গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭।
প্রসঙ্গত, নির্মাতা পরিচয়ের বাইরেও সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী কাহিনিকার, সংলাপ রচয়িতা, চিত্রনাট্যকার ও লেখক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত নিজের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ঘুড্ডি’ দিয়ে দর্শকদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র সমালোচকদেরও মন জয় করেন তিনি।
এই সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। এরপর ‘লাল বেনারসি’, ‘আয়না বিবির পালা’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন সালাউদ্দিন জাকী। নব্বই দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

