কক্সবাজারে শ্বশুর বাড়িতে ডাকাতির সময় নিজ শ্বশুরকে গুলি করে হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মনজুর হোসেনকে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে আটক করেছে র্যাব-৭।
রোববার (২০ আগস্ট) মিরপুর মডেল থানাধীন পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার মনজুর হোসেন (৪৬) কক্সবাজার সদর থানার রুমালিয়ারছড়া টেকনাফ্যা পাহাড়ের মোহাম্মদ হাছানের ছেলে।
র্যাব জানায়, নিহত ভিকটিম মোহাম্মদ হোসেন একজন প্রবাসী এবং কক্সবাজার জেলার সদর মডেল থানাধীন দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া টেকনাফ্যা পাহাড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ১৯৯৯ সালে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে নিজ এলকায় বসবাস শুরু করেন। ২০০০ সালের ১৫ জুন হোসেনের নিজ বাড়িতে তারই মেয়ে জামাই মনজুর হোসেনের নেতৃত্বে একটি ডাকাত দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে দরজা ভেঙ্গে বসত ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ভিকটিম হোসেন ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী ও ডাকাত দলের প্রধান তার মেয়ের জামাইকে চিনে ফেলায় ডাকাত দলের সদস্যরা এলোপাতাড়িভাবে ভিকটিম হোসেনের মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তার বাসার মূল্যবান দ্রব্যাদিসহ নগদ টাকা এবং স্বর্নালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
পরে এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ছবুরা খাতুন বাদী হয়ে খুনসহ ডাকাতির ঘটনা উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে গত ২০ জুলাই বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালত পুলিশ প্রতিবেদন এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের অনুপস্থিতে ৮ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৭ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) তাপস কর্মকার।
তিনি বলেন, নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলার রায় ঘোষণার পর থেকে র্যাব মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি এবং ছায়াতদন্ত অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে রোববার খুনসহ ডাকাতি মামলার প্রধান এজাহারনামীয় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মঞ্জুর হোসেন ঢাকা মিরপুর মডেল থানাধীন পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

