চট্টগ্রামের আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার সাক্ষী মোখলেসুর রহমান ইরাদ আদালতে বলেছেন, ‘মিতু খুন হওয়ার দুই দিন পর বাবুল আক্তারের বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার সাইফুল ইসলামের নির্দেশে আসামি ওয়াসিম ও আনোয়ারের গ্রামীণ বিকাশ নম্বরে ৩ লাখ টাকা পাঠাই। তাদের কাছে টাকা পাঠানোর সময় বাবুলের বাবাও আমার সঙ্গে ছিলেন। বাবুল আক্তারের বোনের বাসা থেকে এ দুই ব্যক্তির নাম ও বিকাশ নম্বর দেওয়া হয়।’
সাক্ষী ইরাদ বাবুল আক্তারের বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার সাইফুল ইসলামের কর্মচারী।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জসিম উদ্দিনের আদালতে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাক্ষ্য শেষে জেরা হয়। এ সময় কাঠগড়ায় থাকা মামলার আসামি বাবুল আক্তারকে শনাক্ত করেন সাক্ষী। এ সময় আদালতে বিকাশে লেনদেনের জব্ধ করা নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়। ইরাদ পাবনা জেলার ঈশ্বরদী পৌরসভার মধ্যম শরণখোলা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের শেরপুর কার্যালয়ে বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
আদালতে সাক্ষী ইরাদ জানান, তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলায় র্যা ব অফিসের বিপরীতে ‘মাল্টিয়ান প্রিন্ট অ্যান্ড প্যাকেজিং’ নামের সাইফুল ইসলামের কোম্পানির এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে ছিলেন।
মহানগর পিপি আবদুর রশীদ বলেন, মঙ্গলবার সাক্ষী সরোয়ার আলমকে জেরা শেষ করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী। এর পর ইরাদ সাক্ষ্য দেন। সরোয়ার বাবুলের বন্ধু গায়েত্রীর বাসার দারোয়ান ছিলেন। আগামী ৮ আগস্ট মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় করা মামলার আসামিরা হলেন– বাবুল আক্তার, কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক ভোলা, মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, আনোয়ার হোসেন, খাইরুল ইসলাম কালু ও শাহজাহান মিয়া। তাদের মধ্যে মুসা পলাতক, ভোলা জামিনে এবং বাকি সবাই কারাগারে রয়েছেন।

