সরকারীভাবে ঘোষিত ঈদ উল ফিতরের ছুটি শেষ হয়েছে গত ২৪শে এপ্রিল।গতকাল ২৫শে এপ্রিল থেকে সরকারী অফিস আদালত খুলেছে।আজ ২৬শে এপ্রিল থেকে খুলেছে বেসরকারী বিভিন্ন গার্মেন্টস,শপিংমল সহ প্রায় সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
কিন্তু প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জে এখনো চলছে ছুটির আমেজ।সরেজমিনে আজ আদালতপাড়া,সরকারী- বেসরকারী ব্যাংক,অফিস, শহরের সর্বত্র ও বিসিক শিল্পনগরী ঘুরে দেখা যায় সরকারী অফিস ও সরকারী-বেসরকারী ব্যাংক বীমা কোম্পানির অফিস ছাড়া অন্যান্য কর্মস্থলগুলো প্রায় ফাঁকা।অনেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীই অনুপস্থিত রয়েছেন।

শহরের ট্রাফিক জ্যামের জন্য পরিচিত কমপক্ষে ৬টি স্পটে জ্যাম তো পরের কথা,গাড়ীই ছিলো হাতেগোনা।অথচ রোজ এসব স্পটে নগরবাসীকে ঘন্টার পর ঘন্টা স্থবির হয়ে থাকতে হয়।সেই ব্যস্ত শহর আজ দুপুর একটার সময়েও যেনো নিষ্প্রাণ।রাস্তায় গাড়ীর সংখ্যা সীমিত,একইভাবে মানুষজনও খুবই কম চলাচল করতে দেখা যায়। এ যেনো ভিন্ন এক নারায়ণগঞ্জ শহর।যে বিসিক এলাকায় লাঞ্চ আওয়ারে বিশাল জনজট নিত্যদিনের ঘটনা,সেই বিসিকেও আজ লাঞ্চ আওয়ারে খুবই কম সংখ্যক শ্রমিক কে দেখা যায়। এই প্রসঙ্গে কথা হয় নিটটেক্স নীটওয়্যার এর চেয়ারম্যান জনাব আরিফুল হকের সঙ্গে।তিনি এই প্রতিবেদককে জানান,বিসিক বলুন আর নারায়ণগন্জ শহর বলুন সকল প্রতিষ্ঠানের সিংহভাগ কর্মকর্তা কর্মচারীরাই দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। ঈদ উপলক্ষে সবাই নিজেদের স্বজনদের কাছে ছুটে যান।কেউ কেউ অফিস থেকে ছুটি বাড়িয়ে নিয়ে যান,কেউবা কিছু না জানিয়েই দু’চার দিন বাড়তি ছুটি কাটিয়ে আসেন।

চিরাচরিত সেই কর্মব্যস্ত নারায়ণগঞ্জ পেতে আগামী শনিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।এখন যাঁরা শহরে আছেন তাঁরা এই শহরের স্থানীয় বাসিন্দা।অটোরিকশা চালক মোঃ সাদ্দাম হোসেন বলেন,রাস্তায় মানুষই নাই পেসেনজার(যাত্রী) পামু কই? তবে বিপরীত চিত্র দেখা যায় বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। শহরের শেখ রাসেল পার্ক,জল্লার পাড় লেক,সিনেমা হল, আর বিশেষ করে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর নির্মিত বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমান সেতু জুড়ে নারী পুরুষ ও শিশুদের উপচে পড়া ভীড় দেখা যায়।সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা রুহুল আমিন বলেন,ঈদের দিন থেকেই রোজ হাজার হাজার নারী পুরুষ ও শিশুরা ঘুরতে আসছেন সেতুতে।তাছাড়া শহরের চাষাঢ়া,উকিলপাড়া সহ কয়েকটি স্থানে বৈশাখী মেলা,তাঁত ও বস্ত্র মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।বিকেল হতে রাত পর্যন্ত এসব মেলাতেও সকল শ্রেণি পেশার নারী-পুরুষের ভীড় দেখা যায়।মেলার দর্শনার্থী ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,এসব মেলা শহরবাসীর জন্য ঈদের আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিক্রেতারাও খুশি তাঁদের বিক্রি ভালো হচ্ছে বলে।একথা বলাই যায়,সারাদেশে যেমনই হোক না কেনো এবার নারায়ণগঞ্জ নগরবাসী ঈদের আনন্দ উপভোগ করবেন আরও অন্ততঃ দুই দিন।

