বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলা

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ ও শারীরিকভাবে সক্ষম করে তুলতে ১৯০৯ সালে শুরু হয় জব্বারের বলীখেলা। ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার চালু করেন এ কুস্তীর আয়োজন। বলীখেলাকে ঘিরেই শুরু হয় তিনদিনের বৈশাখী মেলা বিশাল এলাকা জুড়ে এই মেলা জমে উঠে। জব্বারের বলী খেলা মানেই জমজমাট মেলা। ১১৪ বছর ধরে এই জব্বারের বলী খেলা চলছে।
জব্বারের বলিখেলা এলেই স্মৃতিপটে অনেক ছবিই ভেসে আসে। মেলা বলতে তখন এই জব্বারের বলিখেলাই ছিলো শুধু। বৈশাখ মাসের ১২তারিখ জব্বারের এই বলী খেলাকে ঘিরেই চট্টগ্রামে উৎসব চলতো।
যখন ছোট ছিলাম তখন উঠোনে মাদুর বিছায়ে খেলনা দিয়ে ঘর বানাতাম। ছোট ছোট মাটির হাঁড়িপাঁতিল দিয়ে সংসার গড়তাম। তখন কত সখই না ছিলো এ’সবে। কী বুঝতাম জানিনা। পরিপাটি করেই খেলাগুলো খেলতাম। একপাশে মেলা থেকে আনা খড়ম রাখা হতো। এখন আর খড়ম দেখতে পাই না। হাঁটার সময়ে খড়মের শব্দটা অদ্ভুত লাগতো।
বড় হতে হতে খেলার ধরণ পাল্টে গেলো।
তবে এই জব্বারের মেলা এলে শৈশব স্মৃতিতে ডুব দিই। মেলা চলাকালীন বউঝিয়েরা নাইওর আসতো বাড়িতে । ছোটদের ঈদের সেলামীর মতো বকশিস দিতো বড়রা। কাকডাকা ভোরে বউঝিয়েরা মেলায় যেতো দল বেঁধে। আমাদের বাড়ি থেকে মেলা খুব কাছেই। হেঁটেই যাওয়া হতো। দলবেঁধে সকলেই আনন্দ নিয়ে বছরের ডালাকুলা, বাঁশবেতের তৈজসপত্র, ফুলেরঝাড়ু সবার হাতে থাকতো, হাতপাখা, মাটির কালো কলসি, সরাই, মটকা এসব বাড়িতে হাজির হতো। সংসারের যাবতীয় সব জিনিস এই মেলায় পাওয়া যায়। সারাদিনই হৈ-হুল্লোড় হতো শহরের বাড়িগুলোতে। আড্ডা চলতো নাইওরিদের। এই মেলা ছিল শহরবাসীর উৎসব।
আমার দাদা মেলা থেকে ঝুড়িভর্তি করে মাটির খেলনাপাতি নিয়ে আসতো। দাদা,দাদি মিলে ভাগ করে দিতো সবাইকে।
চারিদিক থেকে টমটম গাড়ির শব্দে বড়দের ভাতঘুম ছুটে যেতো।
পাতাদিয়ে বানানো তালপাতার সেপাইটাকে নাড়তে খুব ভালো লাগতো আমার। যেমন ইচ্ছে তেমন করা যেতো। হাত একবার উপরে উঠছে তো আবার নিচেও নামছে। বেশ মজার খেলা ছিলো। কাঁঠের এক ধরনের গাড়ি তার মাথার উপর কাটের রঙিন নকশা করা চাকা ,গাড়ি চালালেই রঙিন চাকাটা ঘুড়তো। দেখতে দারুণ লাগতো। সুন্দর ছিলো সেই সময় ।
তখন স্বাধীনতার শব্দটার সাথে পরিচিত ছিলাম না। বুঝতাম না। সেই সময়টাই ইচ্ছের ডানা মেলে উড়েঘুরে বেড়াতে পারতাম যখন তখন। এখন কিন্তু বেশ বুঝতে পারি।
যেদিন ফ্রক ছেড়ে ওড়না পড়া শুরু করেছি সেদিন থেকে ডানায় একটা অদৃশ্য শেকল লাগিয়ে দেয়া হয়েছে বাড়ন্ত বয়সের সাথে সাথে। তারও আবার দায় বাড়ে, বাড়ে টানও। অথচ এখনো মন সেই বয়সে পড়ে থাকে যখন তখন।
বড়মন মাঝে মাঝে শিশুমন হতে চায় / আমরা কেউ কেউ বুঝি, কেউ খুঁজি তার ছাই।

এই বিভাগের সব খবর

উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আবারও পাহাড় ধস, ৮ জনের মৃত্যু

টানা বর্ষণের মধ্যে কক্সবাজারে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আবারও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৮ জনের মধ্যে সাতজনই শিশু। সবাই একটি মাদ্রাসার...

বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম-ঢাকা-কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ভারী বর্ষণে জেলার লাল ব্রিজ এলাকায় পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম-ঢাকা-কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আজ বুধবার দুপুর তিনটা থেকে বাস চলাচল...

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’ আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের তারকা চিহ্নিত সংসদ...

সর্বশেষ

উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আবারও পাহাড় ধস, ৮ জনের মৃত্যু

টানা বর্ষণের মধ্যে কক্সবাজারে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আবারও পাহাড়...

বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম-ঢাকা-কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ভারী বর্ষণে জেলার লাল ব্রিজ এলাকায় পাহাড়ের মাটি ধসে...

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম...

চট্টগ্রামে বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু

চট্টগ্রামে টানা ভারি বৃষ্টির মধ্যে দুটি জায়গায় পাহাড় ধসে...

বৃষ্টিতে সড়ক তলিয়ে সাজেকে আটকা পড়েছে ৬০০ পর্যটক

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালী পর্যটককেন্দ্রে প্রায় ৬ শতাধিক...

পার্বত্য অঞ্চলে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ

কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায়...