ঘোষণাটি বেশ কিছুদিন আগেই দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সরকার দলীয় সাংসদ একেএম শামীম ওসমান।তিনি বলেছিলেন স্মরণ কালের সেরা ঈদ জামাতের আয়োজন করবেন তিনি এবার।সেই অনুযায়ী সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এনেছিলেন জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্টগণ।কিন্তু ঈদের আগের দিন বিকালে কালবৈশাখীর কবলে পড়ে তছনছ হয়ে যায় সকল আয়োজন।প্রকৃতির হঠাৎ রুদ্ররুপে পরদিন সকালের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে শংকা ছড়িয়ে পড়ে নগরবাসীর মাঝে।কিন্তু জেলা প্রশাসন,বিভিন্ন সরকারী সংস্থা,দলীয় নেতাকর্মী,সাংবাদিক,আলেম ওলামাগণের সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণে রাতভর চেষ্টায় আবার সাঁজিয়ে তোলা হয় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও সংলগ্ন আশেপাশের এলাকা।বিভিন্ন গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করা হয়,ঈদের দিন সকাল আটটায় জামাত অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত ঈদগাহ ময়দান।

সকাল থেকেই নগরীর দূরদূরান্ত থেকে দলে দলে মানুষ জড়ো হতে থাকেন ঈদগাহ ময়দানে।সকাল সাতটার মধ্যেই ঈদগাহ ছাপিয়ে উত্তরে রাস্তা ও ওসমানী স্টেডিয়াম লাগোয়া মাঠ,দক্ষিণের রাস্তা ঘাট লোকে লোকারন্য হয়ে যায়।যা রীতিমতো অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারনা করে।এতো মানুষের অংশগ্রহণে ঈদের জামাত নারায়নগঞ্জের ইতিহাসে প্রথম বলে মন্তব্য করেন অনেক বয়োজ্যেষ্ঠগণ। একপর্যায়ে মানুষের স্রোত আশেপাশের জামতলা,চাষাঢ়া, মাসদাইর গাবতলী ছাড়িয়ে যায়।তখন সাংসদ শামীম ওসমান ও জেলা প্রশাসক মন্জুরুল হাফিজ মুসল্লীদের আশ্বস্ত করে বলেন, যাঁরা প্রথম জামাতে অংশ নিতে পারছেন না তাঁদের জন্য দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।এবং দ্বিতীয় জামাতেও একই দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।ঈদ জামাতে অংশ নিতে আসা আবদুল আজিজ (৭০) বলেন,আমার জীবনে এতো মানুষের অংশগ্রহণে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হতে দেখিনি।
একই কথা বলেন হাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দীন নামের আরেক সত্তুরোর্দ্ধ প্রবীণ।এতো বিপুল সংখ্যক মানুষের সাথে ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরে সকলেই বেশ খুশি হন।দলমত নির্বিশেষে সবাই সাংসদ শামীম ওসমানের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।এই প্রতিবেদকের নিকট অনেকেই তাঁদের সন্তুষ্টির কথা বলেন।জামাত শুরুর আগে জেলা প্রশাসক ও সাংসদ উভয়েই কৃতজ্ঞতার সাথে রাতভর শ্রম দেওয়া স্বেচ্ছাসেবীগণকে স্মরণ করেন।একই সাথে শামীম ওসমান বলেন,যদি আলেম ওলামাগণ সবুজ সংকেত দেন তাহলে আগামী ঈদ জামাতে মহিলাদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ। নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যান কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
