পূরণ হলো পদ্মার দুই পাড়ের মানুষের আরেকটি স্বপ্ন ।প্রমত্তা পদ্মার বুকে নির্মিত সেতুতে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলল। আর এই ট্রেনের প্রথম যাত্রী হিসেবে পদ্মা সেতু পার হলেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।
মঙ্গলবার(৪মার্চ) দুপুর ১২টায় একটি গ্যাং কার (পরিদর্শন ট্রেন) ভাঙ্গা থেকে মাওয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে। এর পর ছয় বগির একটি ট্রেন পদ্মা সেতু হয়ে মাওয়ায় যাচ্ছে। ট্রেনটি আবার সেতু পার হয়ে মাওয়া থেকে ভাঙ্গা জংশনে ফিরবে।
এর আগে গতকাল থেকেই ভাঙ্গা স্টেশন থেকে শিবচরের ২ স্টেশন হয়ে পদ্মা রেল সেতু হয়ে মাওয়া পর্যন্ত দেখা যায় সাজ সাজ রব। উৎসবমুখর পরিবেশ। ৪২ দশমিক ২ কিলোমমিটার অংশে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলবে, পাড়ি দিবে প্রথম বারের মতো পদ্মা রেল সেতু, এই আনন্দে উৎফুল্ল ছিল সবাই।
রেল সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, মূল সেতুর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারসহ দুইপাশের ভায়াডাক্ট মিলিয়ে পাথরবিহীন ৬ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার পদ্মা রেল সেতুর কাজ সম্পূর্ন হয় গত (২৭ মার্চ) বুধবার।
গত বছরের ২০ আগষ্ট মূল সেতুতে রেল লাইন বসানোর কাজ শুরু হয়। ৪২ দশমিক ২ কিলোমমিটার রেলপথে পাথরবিহীন রেলপথ ১৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার ও ২৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার পাথরযুক্ত রেললাইন। এই রেলপথে ১টি জংশন, ৪টি স্টেশন যাবে রেল। বেলা ১২ টার দিক একটি গ্যাংকার প্রথম যাবে এরপর ৭ বগির একটি ট্রেন যাবে পদ্মা রেল সেতু হয়ে মাওয়া। এর যাত্রী হবে রেল মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী এমপিসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, প্রকল্পের মোট ১৭২ কিলোমিটার লেভেল ক্রসিংবিহীন রেলপথে ৩২টি রেল কালভার্ট, ৩৭টি আন্ডারপাস এবং ১৩টি রেলসেতুর কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর দুই পাশের স্টেশন নির্মাণ চূড়ান্ত পর্যায়ে। প্রকৌশলী সূত্র বলছে, পুরো প্রকল্পের কাজ আগামী বছরের জুনে শেষ হলও ঢাকা-ভাঙ্গা এই অংশের কাজ চলতি বছরই শেষ হবে। পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের ২১ জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে। নতুন রেলপথে যাতায়াতে রাজধানী ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব কমবে ২১২ কিলোমিটার। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

