তিনটি বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজিত আলোচনা সভায় আলোচকরা মার্চ মাসকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস অভিহিত করে বলেছেন, এ মাসে বাংলাদেশের জন্মদাতা বাঙালি জাতির অহংকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মদিন; আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ ভাষণ বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ; ৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস; ২৫ মার্চ কালরাত্রী আর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। অনন্য এ মাসের গৌরবগাথা আমাদের স্মরণে রাখতে হবে। এর ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে। ইতিবাচক ধারায় বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করতে হবে। নারীনির্যাতন-বৈষম্য রোধ করে সমঅধিকার বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে নারীর সার্বিক মুক্তির পদক্ষেপ নিতে হবে। দুখি মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে হবে। বাঙালি জাতির সাফল্যের কাহিনী বিশ্ববাসীকে জানাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও জরুরি। কেননা যোগ্য সন্তানরাই দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে। এজন্য নারী-পুরুষকে সমতার ভিত্তিতে একসাথে কাজ করতে হবে।
চট্টগ্রাম লেডিস ক্লাবের উদ্যোগে আজ ১৫ মার্চ বুধবার দুপুরে মহান স্বাধীনতা দিবস, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় আলোচকরা একথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ক্লাব সভানেত্রী খালেদা আউয়াল। ক্লাব সম্পাদিকা বোরহানা কবিরের সঞ্চালনায় শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন সদস্যা রিজিয়া আকবর খন্দকার। তিনপর্বে সাজানো অনুষ্ঠানে প্রথমেই বিশ্ব নারী দিবসের আলোচনায় অংশ নেন ক্লাব প্রাক্তন সভানেত্রী জিনাত আজম, সহ সভানেত্রী পারভিন চৌধুরী, উদ্যোক্তা গুলশানা আলী, উদ্যোক্তা রুহী মোস্তফা, রন্ধনশিল্পী হাজেরা মুন্নী, আইনজীবী রিজওয়ানা সালেহ। আলোচকরা বলেন, দেশের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা সাফল্যের ছাপ রেখে চলেছে। নারীদের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব তারা মা। মা-রাই পারেন সুসন্তান ও যোগ্য নাগরিক গড়ার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে। এজন্য পারিবারিক সামাজিক কাঠামো ঠিক রাখার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। যেখানে বৈষম্য, অসম্মান, নির্যাতন সেখানে নারীদের সোচ্চার হতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিবাদ করতে হবে। আইনি বাধা ডিঙিয়ে সম অধিকার বাস্তবায়নে সরকারি পদক্ষেপের সাথে একযোগে কাজ করতে হবে। মূলকথা, নারীদের অধিকার সমুন্নত রাখতে এবং জেন্ডার বৈষম্য নিরসনে ঐক্যবদ্ধভাবে গৌরবময় ভূমিকা পালন করতে হবে। সম্মিলিতভাবে এগুলে নারীদের জয় অবশ্যম্ভাবী।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনের আলোচনায় অংশ নেন ক্লাবের সহসভানেত্রী সাবিহা মুসা, সদস্যা খালেদা আক্তার চৌধুরী। আলোচকরা বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হত না। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন বাঙালির গৌরব। বঙ্গবন্ধু ছিলেন পয়েট অব পলিটিক্স। নেতৃত্ব গুণেই তিনি অবিসংবাদিত নেতা।
মহান স্বাধীনতা দিবসসহ সার্বিক আলোচনায় অংশ নেন ক্লাব উপদেষ্টা ড. জয়নাব বেগম, অধ্যাপক আয়েশা পারভিন চৌধুরী। তারা বলেন, বাঙালির রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় এদেশের স্বাধীনতা। স্বাধীনতার রক্তাক্ত ইতিহাস বাঙালি জাতিকে করেছে অনন্য। এ যুদ্ধে পুরুষদের মতো নারীদেরও অবদান রয়েছে। অর্জিত এ স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে যে যার অবস্থান থেকে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। দেশ ও সমাজের অবক্ষয় রোধে নারীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আলোচিত দিবসকে নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি ফরিদা ফরহাদ, কবি মর্জিনা আখতার, কবি আলেয়া চৌধুরী। গান পরিবেশন করেন ক্লাবের সহ কোষাধ্যক্ষ ডা. হাফসা সালেহ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ক্লাব সহসভানেত্রী পারভিন জালাল।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি শুভেচ্ছা জানান, উপদেষ্টা সেরীনা তাহের, সহসম্পাদিকা মিনু আলম, সহসম্পাদিকা আক্তার বানু ফ্যান্সী, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দা শামীম কাদের সুরমা, সহসাংগঠনিক সম্পাদিকা শামীম আরা আহাদ, সদস্যা মাইনু নিজাম, আফরোজা বুলবুল তাহের, শাহরিয়ার ফারজানা, নাজমা সাইদা বেগম, রওশন আক্তার, রোকেয়া আহমেদ, নাছিমা শওকত, নাজনীন আরা, সাকেরা সাদেক, মুনিরা হুসনা, কাজী তুহিনা আক্তার, আশরাফুন্নেসা, রেহানা আকতার করিম, লায়লা ইব্রাহিম বানু, শাহেদা আখতার নাসরীন প্রমুখ।

