গত ৫ মার্চ ভোরে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিলো।তা নিয়ে জনমনে আতংক ও চলমান আন্দোলনের ফলস্বরুপ গতকাল উক্ত ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত ৪ ডাকাতকে গ্রেফতার করে আজ ১৩মার্চ দুপুরে প্রেসব্রিফিং করেছে সন্দ্বীপ থানা।উল্লেখ্য যে গত ৫ মার্চ সংঘবদ্ধ ডাকাতদল মগধরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী মুস্তাফিজুর রহমান আজিমের ঘরে ঢুকে ডাকাতি করে। এ সময় নগদ টাকা ও মূল্যবান গহনা বের করে দেওয়ার জন্য ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের বেদম মারধর করতে থাকে। ডাকাতরা গৃহকর্তা হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মুস্তাফিজুর রহমান আজিমের বুকসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করেছিলো। একইসাথে গৃহকর্ত্রী সন্দ্বীপ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মাইমুনা খানম নিপা ও তার কন্যা শিশুকেও মারধর করে। এ সময় ডাকাতরা তাদের নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার,মোবাইল ও দামী জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।ডাকাতদের হামলায় উক্ত ঘটনায় শিশু ও নারীসহ একই পরিবারের মোট তিনজন গুরুতর আহত হয়েছিলো।
এই লোমহর্ষক ডাকাতির ঘটনায় সন্দ্বীপের জনমনে ব্যাপক আতংক ও ক্ষোভে ডাকাতদের গ্রেফতারের দাবীতে মানব বন্ধন,বিক্ষোভ মিছিল সহ বিভিন্ন কর্মসুচী পালন হয়েছে এলাকার জনগন।সোশ্যাল মিডিয়ায় লোমহর্ষক ডাকাতির ঘটনায় হয়েছে চরম তোলপাড়।
অবশেষে জনগনের অব্যাহত আন্দোলন, স্যােশাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার ফলাফল স্বরুপ পুলিশ সুপার চট্টগ্রাম সার্বিক দিক নির্দেশনায় ও অফিসার ইনচার্জ সন্দ্বীপ থানা’র নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে সন্দ্বীপের কুখ্যাত ডাকাত ছগির, শরাফত আলী শামীম, মোশারফ হোসেন জনি, মোঃ মোস্তফা সহ ৪ জনকে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। গ্রেফতারকৃত চারজনকে পুলিশ রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মামলা সংক্রান্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। আসামীদের দেওয়া তথ্য যাচাই বাছাই করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সহিত প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ৪ জনকে গতকাল গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার কৃতরা হলেন ১। নুর ইসলাম (৩০), ২। মোঃ করিম (৩৯), ৩। মোঃ মনির (২৮), ৪। মোঃ সেলিম (৩৬)। তাদের হেফাজত হতে লুন্ঠিত মালামাল এবং ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা প্রাথমিকভাবে ডাকাতির ঘটনার দায় স্বীকার করে।
ডাকাতদের আটকের পর আজ দুপুর ২ টায় সন্দ্বীপ থানায় এক প্রেসব্রিফিং -এ ওসি শহীদুল ইসলাম ধৃত ডাকাত ও ডাকাতদের থেকে উদ্ধারকৃত মালামাল সংবাদ কর্মীদের সামনে উপস্থাপন করেন। এ সময়
ওসি শহীদুল ইসলাম উক্ত ডাকাতি সহ বিভিন্ন চুরি ডাকাতির ঘটনায় সন্দ্বীপের বাইরের ডাকাত বা আন্তজেলা ডাকাতদের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন, এবং চুরি ডাকাতি বন্ধে জনপ্রতিনিধিদের কাংখিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলেও মন্তব্য করেন।এছাড়াও বার বার তাগিদ দেওয়ার পরও হাট বাজার গুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন না করাকেও দায়ী করলেন তিনি।
ডাকাতির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষিকা নিপার ভাই রেজাউল করিম বলেন আটককৃত ডাকাতদের চেহারার সাথে ডাকাতির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ আমার বোন ভগ্নিপতির দেওয়া বর্ননার সাথে মিলে গেছে, এবং একটি দা ছাড়া বাকি উদ্ধারকৃত মালামাল সব সঠিক।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেজাউল করিম বলেন এটা হত্যাকান্ডের উদ্দেশ্যে ডাকাতি বলে মনে হয়না কারন আমার বোন ভগ্নিপতির কোন শত্রু নেই। তবে এ জাতীয় ডাকাতির ঘটনা খবই উদ্বেগজনক, এবং পুরো সন্দ্বীপের জন্য আতংকের বিষয়।ভবিষৎতে যাতে আর কোথাও ডাকাতি না হয়, এবং এইসব ডাকাতদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবী করছি।

