সন্দ্বীপ টাউন জগন্নাথ দেবালয়ে “আজ আমাদের ন্যাড়া পোড়া কাল আমাদের দোল, পূর্ণিমাতে চাঁদ উঠেছে বলো হরি বোল”এই মজার ছড়ায় মুখরিত ও হোলির আনন্দে মাতোয়ারা ছিলো গত দুটো দিন।
গত ৬ মার্চ দুপুর থেকে শুকনো ডাল, কাঠ এবং শুকনো লতা পাতা জোগাড় করে সেগুলোকে স্তূপাকার করে, ফাগুন পূর্ণিমার সন্ধ্যায় পোড়ানো হয় ন্যাড়া বা বুড়ির ঘর নামে অশুভ শক্তির প্রতীকি ঘর।তার আগে হরিনাম কীর্তন ও মন্ত্র উচ্চারন করা হয় এই অশুভ শক্তি বিনাশের লক্ষ্যে।এ বিষয়ে মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক বাদল রায় স্বাধীন জানান
যুগ যুগ ধরে এই রীতি আমাদের বাঙ্গালী সংস্কৃতির সঙ্গে পালিত হয়ে আসলেও সন্দ্বীপে কোথাও এই উৎসব চলমান নেই,একমাত্র জগন্নাথ দেবালয় ছাড়া। এই ন্যাড়া পোড়ার পর সবাই সেই ছাই শরীর ও কপালে ছোঁয়ায়। বিশ্বাস করা হয় যে, এতে অশুভ শক্তি ছায়া জীবনের ওপর আর পড়ে না।যাকে হোলিকাদহন ও বলা হয়ে থাকে। ন্যাড়া পোড়া হল মন্দের উপর ভালোর জয়ের প্রতীক।
উক্ত ২ দিনের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা থেকে আগত গবেষক ও ফটো সাংবাদিক তানিয়া সরকার ও পিনাকি নাথ।অন্যদিকে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাষ্টার বল্লভ কৃষ্ণ মুখার্জী, সহ-সভাপতি কার্তিক চক্রবর্তী, দুলাল সেরাং, সাংগঠনিক সম্পাদক শৈবাল দে মনা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিরন চন্দ্র রায়,সহ-সম্পাদক শিমুল সুত্রধর, প্রচার সম্পাদক সৌরভ গাঙ্গুলী,পুরোহিত সঞ্জীব চক্রবর্তী,কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে গোপী নাথ, বিমল মজুমদার,জয় সুত্রধর, রতন দে,সুমন পাল সহ প্রায় ৫ শতাধীক লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
পরদিন সকাল থেকে শুরু হয় শুভ দোল পুর্নিমা বা হোলি উৎসবের।উক্ত হোলি উৎসব উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,বাল্যভোগ,ভোগ আরতি,আবির খেলা,প্রসাদ বিতরন সহ বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করা হয়।দুপুরে একে অপরের মুখে ও গায়ে আবির মাখিয়ে সারা শরীর রঙ্গিন করে তোলেন।এ যেন মনের ও শরীরের কালিমা দুর করে মন ও শরীর থেকে পাপ তাপ দুর করে মন ও শরীরকে রাঙ্গিয়ে তোলার উৎসব।সকলে সারাদিন ভর এই হোলি উৎসবে আবির খেলা ও
নৃত্যের তালে তালে মুখরিত ও মাতোয়ারা করে তোলে পুরো মন্দির প্রাঙ্গন। দুপুরে প্রায় ৫ শতাধীক পুজার্থীর মাঝে প্রসাদ বিতরনের মধ্য দিয়ে চমৎকার আনন্দঘন দুটো দিনের সমাপ্তি ঘটে

