দ্বাদশ জাতী য়নির্বাচনে একক ভাবে অংশ নিতে পারে জাতীয় পাটি। আওয়ামী লীগ বিএনপির বাইরে নিজেদের একক শক্তির জানান দিতে চায় দলটি। দলের ভেতর এ নিয়ে ঠান্ডা লড়াই চলছে জাপার। কেউ বলছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে থাকো, আবার কেউ কেউ বলছে মহাজোট ছাড়ো। এ পরিস্থিতিতে দল আপাতত ৩শ আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। বিগত নির্বাচনে পাটির যারা মনোনয়ন পেয়েছে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে । নিজেদের শক্তি পরীক্ষায়ও তারা অবর্তীর্ণ হতে চায়। সারাদেশের দলীয় নেতাদেরকে নির্বাচনের প্রস্তুতি কাজ শুরু করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে দলীয়সূত্র গুলো জানিয়েছে।
জাতীয় পাটির নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,দলের প্রধান উপদেষ্টা বেগম রওশন এরশাদের অনুসারিদের মত হচ্ছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের হয়ে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে একমত। অপরদিকে দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের অনুসারিদের মত হচ্ছে বিরোধী দলের ভূমিকায় যখন সংসদে পালন করছি আমাদের উচিত মাঠের বিরোধী দল গুলোর সাথে জোটবদ্ধ হওয়া।তাতে নির্বাচনে আসন সংখ্যা বাড়ানো যাবে। তাদের যুক্তিও একেবারে খারাপ নয়। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকার টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় জনগনের কাছে দলটির প্রতি মানুষের আস্থা কমে গেছে। নির্বাচনে তার প্রতিফলন ঘটতে পারে। সুতারাং বিএনপি কিংবা ইসলামী দল গুলোর সাথে মিলে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করলে আখেরে ফল ভালো হবে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় পাটির প্রেসিডিয়ামের একজন নেতা বলেছেন, জাতীয় পাটি বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে। তারা অন্য কোন দলের সাথে আর লেজুর বৃক্তি করবেনা। নিজেদের শক্তিতে যাক রার নিজেরা করবে। তবে সরকারের সাথে দূরত্ব বজায় রেখে নির্বাচন করা হলে আসন বাড়বে বলে মনে করেন এই নেতা।
অপর এক নেতা নিজেকে প্রকাশনা করার শর্তে বলেছেন, এ মুহূর্তে বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ হলে জাতীয় পাটি সবচেয়ে লাভবান হবে। বিএনপি অন্তত ৫০-৬০ টি আসনে জাতীয় পাটিকে ছাড় দেবে। এ বিষয়ে জাপার একাংশের কয়েকজন নেতার সাথে বিএনপির নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় পাটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুুন্নুর সাথে গতকাল মঙ্গলবার রাতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্লোগান নিউজকে জানান, জাতীয় পাটি অলরেডি নির্বাচনের প্রস্তুতি কাজ শুরু করে দিয়েছে। আমরা ৩শ আসনেই প্রার্থী দেবে। আমাদের থানা জেলা কমিটি নিয়মিত সভা সমাবেশ করে যাচ্ছি। দলীয় নেতাকর্মীদেরকে সংগঠিত করার কাজ করে যাচ্ছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাথে মহাজোটে থাকবকি থাকব না তা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পরিস্থিতি যখন যা হবেআমরা সেই মতেসিদ্ধান্ত নেবো। আপাতত আমাদের নিজস্ব প্রস্তুতি শুরু করেছি।

