সিরাজগঞ্জের তাড়াশে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে জয়নাল আবেদীন নামে এক সহকারী শিক্ষক ও তার ছেলের মারপিটে প্রধান শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত প্রধান শিক্ষককে প্রথমে তাড়াশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সিরাজগঞ্জ ফজিলাতুন্নেছা মজিব হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
রবিবার(২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের জন্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জন্তিপুর গ্রামের স্থানীয় জয়নাল আবেদীন নামে সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন যাবত জন্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এমতাবস্থায় ২০১৮ সালে আমি ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার সময়ে আমাকে তিনি যোগদান করতে বাধা দেন। তার বাধা উপেক্ষা করে যোগদান করি। তখন থেকে আমার সাথে মনমালিন্য চলছিল। কিন্ত রবিবার সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের চাকরির শেষ দিন। তিনি অবসর গ্রহণ করবেন। এ সময় আমি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছিলাম। এ সময় সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদীন ও তার ছেলে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পূর্ববিরোধের জের ধরে প্রতিশোধ নিতে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু করেন। একপর্যায়ে সহকারী শিক্ষক ও তার ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে তাকে অতর্কিত মারপিট করেন। এতে শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হয়। পরে অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তাড়াশ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদীন প্রধান শিক্ষককে মারপিটের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক বলেন, রবিবার সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের অবসরগ্রহণের দিনে একজন প্রধান শিক্ষককে মারপিট করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে দ্রুত জয়নাল আবেদীন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করছি।
তাড়াশ উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আলী আশরাফ বলেন, ক্লাসরুমে শিক্ষকদের মারামারির ঘটনাটি তিনি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন।
তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

