‘এসো মিলি প্রাণের টানে তোমার আমার শেকড় যেখানে’ এই স্লোগানকে ভিত্তি করে অনুষ্ঠিত হয়েছে রাউজান উপজেলার প্রাচীনতম বিদ্যাপীট মহামুনি এংলো পালি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি-১৯৯২ ব্যাচের পুনর্মিলনী।
গত শুক্রবার বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে সকাল ১০ টায় স্কুল জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও তিন ধর্মের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আল-কোরআন, ত্রিপিটক ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে পুনর্মিলনী উৎসবের সূচনা হয়। পরে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, ভোজন উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জন বড়ুয়ার সভপতিত্বে আলোচনা প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সমাজ হিতৈষী আলহাজ্ব আহমেদ বশর।বিশেষ অতিথি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক মলয় মুৎসুদ্দি।
৯২ ব্যাচের শিক্ষার্থী রিপন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য ড. প্রিয়দর্শী মহাথের, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মো. ইসহাক।
ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মো. লোকমান। স্মৃতিচারণ করেন মান্না বড়ুয়া, ধৃতিমান আইচ, নজরুল ইসলাম চৌধুরী কাশেম, নুরুল ইসলাম প্রমুখ। এরপূর্বে ৯২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উপহার বিদ্যালয়ের নান্দনিক তোরণের উদ্বোধন করা হয়। তোরণ ছাড়াও পাঁচশত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সামগ্রী ভর্তি একটি আলমিরা ও ফটোস্ট্যাট মেশিন উপহার দেন ৯২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
সকাল ৯টার মধ্যে শিক্ষার্থীরা স্ব স্ব স্বামী-স্ত্রী, সন্তানদের সাথে নিয়ে চোখে-মুখে আনন্দের আভা ছড়িয়ে প্রাণের বিদ্যাপীটে উপস্থিত হন। দীর্ঘ ৩১ বছর পর স্কুল জীবনে প্রিয় সহপাঠীদের কাছে পেয়ে আবেগ তাড়িয়ে হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তারা গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ভাপা পিঠার স্বাদে ও কফির চুমুকে গল্পে-আড্ডায়, আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেন। অনুষ্ঠানে মনে আনন্দে কেউ করেন গান, কেউ নৃত্য। এই মিলনের আনন্দে মেতে উঠেন তাদের সন্তানরাও। এমন সুখের মোহনায় তারা যেন বারেবারে ফিরে আসতে পারে এবং প্রাণের বিদ্যালয়ের জন্য কিছু একটা করতে পারে এই প্রত্যাশা করেন ৯২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এই শতবর্ষোত্তীর্ণা বিদ্যাপীটের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে দেশ-বিদেশে ব্যবসায়-বাণিজ্যে ও সরকারি – বেসরকারি পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। বিদ্যালয়ের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জন বড়ুয়া।

