আজ পয়লা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। সব অতীত পেছনে ফেলে নতুন কিছুর প্রত্যয়ে বর্ণিল সাজে আজ থেকে বদলে যাবে প্রকৃতি। আর কবির ভাষায় জানান দেবে ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’।
প্রকৃতিতে ফাল্গুনের হাওয়া, বাতাসে বসন্তের উন্মাদনা। ফাল্গুনের হাত ধরেই ঋতুরাজ বসন্তের আগমন। সেই সঙ্গে গানে আর অনুভূতিতে একইদিনে এসেছে ভালোবাসা দিবস। ঋতুরাজের হাত ধরে এসেছে ভালোবাসার দিনটি।
প্রতিবছর বর্ণাঢ্য আয়োজনে বসন্তবরণ হয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে দুই বছর স্বল্প পরিসরে বসন্তবরণের আয়োজন করা হয়। করোনার প্রাদুর্ভাব কমে আসায় এবার বসন্ত উৎসব আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশা বাঙালি মনে।
বসন্ত বরণের উৎসব বাঙালির আবহমানকালের। শত বছর ধরে বাঙালি মাঘের জীর্ণতা ঝেড়ে ফেলতে বসন্ত উৎসবে মেতে ওঠে। তার সঙ্গে ভালোবাসা দিবসের আয়োজন যোগ হওয়ায় উৎসবের মাত্রাটা একটু ভিন্ন হয়। যদিও নগরের অনেক তরুণ মনে করেন, ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশের কোনো দিনক্ষণ নেই। চির অম্লান ভালোবাসা। ক্ষণে ক্ষণে প্রিয়জনকে বলা যায় ‘ভালোবাসি’। তবুও উৎসবে বুঝি আরও চাঙ্গা হয় আকুতি।
অন্যান্যবারের মতো এবারও ফাল্গুনের প্রথম দিনে বসন্তকে বরণ করে নেবে দেশবাসী। রঙ বেরঙের পোশাকের বাহারি ফুলেল উপস্থিতিতে সে এক অন্যরকম আমেজ দেখা দেবে। পোশাক ও মননে বসন্ত বরণের নয়ন জুড়ানো দৃশ্য দেখা যাবে।
বাসন্তী কিংবা হলুদ রঙের শাড়ির সঙ্গে খোঁপায় গাঁদা ফুলের বন্ধনী অথবা মাথায় ফুলের টায়রা পরে ঘুরতে বেরোবে নারীরা। বাসন্তী সাজে তারা ঘুরে বেড়াবে পার্ক ও বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে।
সকাল থেকে হলুদসহ বাহারি রঙের পাঞ্জাবি বা ফতুয়া পড়ে বেরোবে কিশোর-তরুণ-তরুণীরা। শিশুদের পোশাকেও দেখা যাবে নানা রঙের সমাহার। শিশু কিশোর থেকে শুরু করে সকলেই সাজবে নতুন সাঝে।
ভালোবাসা দিবস ও ফাল্গুনকে ঘিরে ঢাকাসহ সারাদেশেই বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বইমেলা চত্বর থেকে শুরু করে এর আশপাশের এলাকায় থাকছে দিনভর নানা অনুষ্ঠান।

