চট্টগ্রামে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দেওয়ার ঘটনায় আলোচিত নাম নির্বাচন কমিশন (ইসি) অফিসের পিয়ন জয়নাল আবেদীন। এনআইডি কাণ্ডে পর এবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) বিভিন্ন ওয়ার্ডের সার্ভার হ্যাকিং করে জন্মনিবন্ধন বানিয়ে নেওয়া ঘটনায়ও উঠে এসেছে তার নাম। বিভিন্ন আলামতসহ তিনি ধরা পড়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের জালে।
আজ মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার আসিফ মহিউদ্দীন। এর আগে সোমবার জয়নালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।
জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে আইডি হ্যাক করে চসিকের ছয়টি ওয়ার্ডে ৭৯৬টি জন্মসনদ বানিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের জন্মনিবন্ধন সহকারী আনোয়ার হোসেন খুলশী থানায় একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় আগে জন্মনিবন্ধন জালিয়াতিতে জড়িত থাকার ঘটনায় আরও চারজন গ্রেপ্তার হয়েছিল। তাদের জবানবন্দিতে উঠে আসে এই জয়নালের নাম। এই জয়নাল তার বন্ধু বিজয় দাশ ও সীমা দাশকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন দুর্র্ধর্ষ এনআইডি জালিয়াতি চক্র। ২০১৯ সালে আলোচিত এ ঘটনার পর বেরিয়ে এসেছিল এনআইডি জালিয়াতিতে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের কর্মচারীদের যোগসাজশের বিষয়টি।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট জানায়, গ্রেপ্তার জয়নাল বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের এনআইডি জালিয়াতি চক্রের সদস্য। এসব ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা চলমান। ফের জন্ম নিবন্ধন সনদে ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগে আটকের পর তিনি স্বীকার করেছেন গড়ে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকার বিনিময়ে সে জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থা করে দিত।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার আসিফ মহিউদ্দীন জানিয়েছেন, জয়নাল আবেদীনের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ডিভাইস প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে এ তথ্যগুলোর সত্যতা ও আলামত পাওয়া গেছে।

