বান্দরবান জেলার লামা পৌরসভা এলাকায় আদালতের নিষেধাজা উপেক্ষা করে জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। লামা সদর ইউনিয়নের বলিয়াচর গ্রামের বাসিন্দা মো. কফিল উদ্দিনের ছেলে মো. নওশেদ (২৮), আবদুল খালেকের ছেলে মো. আরিফ (২৯), মো. কফিল উদ্দিনের স্ত্রী জরিনা বেগম (৩২), আলা উদ্দিনের স্ত্রী পারভিন আক্তার (৩০), নুরুল আলমের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৪২), মেয়ে কোহিনুর বেগম (২২) ও আবুল কাশেমের ছেলে মো. তানজিরের (২১) বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা মৃত মো. সিরাজুল হক কারবারীর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, জমি দখলে বাঁধা দিলে প্রতিপক্ষের হামলায় স্ত্রী জান্নাত আরা বেগম, মেয়ে তাছলিমা আক্তার ও সুমী আক্তার আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সোমবার বিকেলে লামা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
থানায় লিখিত অভিযোগে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শফিকুল ইসলামের বাবা ও নিজ নামীয় ভোগ দখলীয় ২ একর জমি মো. নওশেদ গং দাবী করেন আসছেন। প্রয়োজনে খুন জখমের বিনিময়ে এ জমি জবর দখল করবে বলে বলে হুমকিও দেন নওশেদ গং। এ ধারাবাহিকতায় নওশেদ গং গত রবিবার সকাল ৬টার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দা, লাঠি, লোহার রড়, ধারালো অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমিতে ট্টাক্টর লাগিয়ে চাষ দিয়ে ধান রোপন করেন। খবর পেয়ে শফিকুল ইসলমের স্ত্রী ও দুই মেয়ে এতে বাঁধা দেন। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে নওশেদগং শফিকুল ইসলামের স্ত্রী-মেয়েকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় এবং কোলের শিশুকে ছুড়ে মারেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নওশেদগং জানান, আমরা কারো জমিতে ধান রোপন করিনি। আমরা আমাদের জমিতে ধান রোপন করেছি। আমাদের জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা নেই। এর আগে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে গত ২ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজি্েট্রট আদালতে প্রতিপক্ষ মো. নওশেদ গং নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করেন। মামলার ভিত্তিতে বিরোধীয় জমিতে দুই পক্ষের উপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন বিজ্ঞ আদালত। দুই পক্ষকে নোটিশের মাধ্যমে দুই পক্ষকে বিরোধীয় না যাওয়ার জন্য অবগত করে পুলিশ।
মো. নওশেদ ও শফিকুল ইসলাম গংদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় আদালত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদানের সত্যতা নিশ্চিত করেন লামা থানা পুলিশের এএসআই সোলায়মান খাঁন বলেন, নিষেধাজ্ঞার পরও কোন পক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

