কক্সবাজারের রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ির বনতলা এলাকায় অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের পর তা বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা। গত কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে ১০/১২ টি ডাম্প ট্রাক নিয়ে বিভিন্ন জনের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ও সরকারি জমির মাটি ও বালি তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে বালুখেকোরা প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক হওয়ায় ভুক্তভোগী লোকজন ভয়ে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না। এ অবস্থায় এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ির বনতলার জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে বিভিন্ন ব্যক্তি, সরকারি জমির মাটি ও বালি উত্তোলন করে বিক্রি করছেন স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, বহু পরিবেশ মামলার আসামি ইউনুস ভুট্টোর ভাই নুরুল আজিম, সরওয়ার, ডাম্প ট্রাক মালিক চাইল্ল্যাতলীর নুরুল ইসলাম, হাডিরমাথার ইসমাঈল, সাদরপাড়ার মোহাম্মদ আলম, নজরুল, কাইম্মারঘোনার লালু, কোনারপাড়া শাহজাহান, সিরাজ, কামরুল, মফিজ সহ ১০/১২ জনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট। ইউনুস ভুট্টো, নুরুল আজিম সহ তার ভাইয়েরা পাহাড়, বন, ছড়া, খাল-বিল ধ্বংসের সাথে জড়িত। ইতিপূর্বে চেয়ারম্যান থাকাকালে পাহাড় কাটার ঘটনায় ইউনুস ভুট্টোর বিরুদ্ধে ৬ লাখ টাকা জরিমানা সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। নুরুল আজিম সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল। এমনকি রামু ভূমি অফিসের একজন সরকারি সার্ভেয়রকে পাহাড় কাটা পরিদর্শনের সময় মারধর করা হয়েছিল। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ফলে এলাকাবাসী ভয়ে মুখ খোলার সাহস পায় না। অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও কোন কথা বলেননি নুরুল আজিম।
স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে মাটি ও বালি উত্তোলন করে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির ফলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত বাণিজ্যিকভাবে মাটি ও বালি উত্তোলন করে বিক্রির সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সেদিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত।’ পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক হাফিজুর রহমান অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।
ইমা

