চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, ৭৫‘র ১৫ আগস্ট জাতির জনককে হত্যার মাধ্যমে এদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল ঘাতক চক্র। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর মানবসম্পদ গড়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরী করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার মিশনে দেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীগণ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছেন।
মঙ্গলবার সকালে নগরীর আইবির ভবনে ইনষ্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ চট্টগ্রাম জেলা নির্বাহী কমিটির নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের অভিষেক অনুষ্ঠানে টেকসই উন্নয়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানী প্রতিপাদ্যে গণ-প্রকৌশল দিবস ২০২২ ও আইডিইবি’র ৫২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
ইনষ্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি প্রকৌশলী মো. নেছার উদ্দীনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী, ইনষ্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ওয়াসার বোর্ড সদস্য জাফর আহমদ সাদেক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে সদস্য প্রকৌশলী মুনির উদ্দিন আহম্মদ, আইডিইবি’র উপদেষ্টা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান মাহমুদ আহমেদ, সেভেন রিং সিমেন্টের ম্যানেজার এ.বি.এম ইফতেখার আলম সিদ্দিকী, চসিক নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন প্রমুখ।
মেয়র আরো বলেন, আমাদের ছোট আয়তনের দেশে প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বসবাস। এই মানব সম্পদকে কাজে লাগাতে না পারলে দেশের বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। টেকসই উন্নয়নে লক্ষ্যে মূল্য সাশ্রয়ী নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালালীর নিশ্চয়তা অপরিহার্য্য। চলমান ইউক্রেন ও রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষিতে জ্বালানী তেলের ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধি এবং জ্বালানী চাহিদা ও যোগান উন্নত দেশকেও হিমাশিম খেতে হচ্ছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর সাশ্রয়ী হওয়ার আহবানে সকলকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রযুক্তিকে জনপ্রিয় করা দরকার। প্রযুুক্তিতে গনমানুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠ করতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে উন্নয়শীন দেশের কর্মস্থানে নেতৃত্ব দিতে কারিগরি জ্ঞান, শ্রম ও ত্যাগের সমস্বয়ে কর্মপ্রত্যয়ী ইনষ্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াসদের প্রস্তুত হতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সাটিফিকেটের পাশাপাশি জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করতে পারলে যোগ্যতার মাপকাঠি এমনিতেই তৈরী হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি সুন্দর সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ গড়তে ডিপ্লোমা প্রকৌলশীদের দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান।
মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের প্রকৌশলীগণ সম্মুখ যোদ্ধা, তাই প্রযুক্তিগত দক্ষ ও মান সম্পন্ন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী তৈরী করা সময়ের দাবী। তিনি কর্নফুলী টানেল ও পদ্মা সেতু নির্মাণে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে তাদের ভূমিকা অগ্রগণ্য হবে বলে আশাবাদ বক্ত্য করেন।

