চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারায় বঙ্গোপসাগর তীরে পারকি সৈকতের পশ্চিম পাশে একটি ডলফিনের মরদেহ ভেসে এসেছে। শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এটি দেখতে পান পর্যটক ও স্থানীয়রা। এদিকে সৈকতে একের পর এক ভেসে আসছে মৃত ডলফিন। ভেসে আসা ডলফিনগুলোর দেহ ক্ষত-বিক্ষত। আসছে মৃত কাছিমও। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা। পারকি সৈকতে মৃত ডলফিনের শরীরের দাগ রয়েছে উল্লেখ করে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, শুক্রবার বিকেলে পারকি সৈকতের পশ্চিম পাশে একটি ডলফিনের মরদেহ দেখতে পান পর্যটক ও স্থানীয়রা। শনিবার সকালে এটি সৈকতেই মাটি চাপা দেওয়া হবে। “সাগরে মাছ শিকার জেলে ট্রলারের জালে আটকে বা ট্রলির আঘাতে এ ডলফিন মারা যেতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি । তবে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে মৎস্য বিভাগকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কারণ সামুদ্রিক এ বন্ধু প্রাণীগুলো মারা পড়লে সমুদ্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলেও জানান তিনি “পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন এনভ্যায়ারমেন্ট পিপলের প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, প্রাণ প্রকৃতির উপর এমন আঘাত মেনে নেয়া যায় না। বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ এর এমন ভয়াবহ দাপটেও আমরা থামছি না। এখনও আমরা কেন বুঝতে চাই না যে, প্রাণ প্রকৃতি না থাকলে শুধু মানুষ নয় পৃথিবীর অস্বিত্বই থাকবে না। উপকূলে ডলপিনের এমন মত্যু চাই না। এটা আমাদের জন্য অশনি সংকেত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির কো অর্ডিনেটর অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, পারকি ভেসে আসা ডলফিনটি বিপন্ন জাতের ‘ইরাবতি ডলফিন’ নামে পরিচিত। “বিভিন্ন সময়ে সৈকতে এ ডলফিনগুলোকে কারা হত্যা করছে তা দেখতে হবে। এসব ডলফিন মারা পড়লে আমাদের পরিবেশও হুমকির মুখে পড়বে বলে জানান তিনি।”

