গতকাল ১৪ অক্টোবর শুক্রবার রাতে শীতলক্ষ্যা নদীর হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে সৃষ্ট নৌকাডুবির ঘটনায় তিন কিশোরের মৃত্যু ও লাশ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেছে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল।
শুক্রবার রাত দশটার সময় এই দূর্ঘটনা ঘটেছিলো।নিহতরা হলেন- শাওন, জিম ও রিফাত। তাদের বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। তারা তিনজনই শহরের ডনচেম্বার এলাকার বাসিন্দা ও নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমির শিক্ষার্থী।একই নৌকার যাত্রী তামিম (১৬) জানান,তারা চারজন মিলে বন্দরের নবীগঞ্জ মেলায় ঘুরতে গিয়েছিল।বাড়ি ফিরতে রাত ১০টার দিকে নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকায় উঠেন। মাঝিকে নিষেধ করার পরও ছোট নৌকায় আরও ৮/১০ জন যাত্রী উঠান। নৌকাটি ছাড়ার পর পরই একটি বড় জাহাজের ঢেউয়ে হেলেদুলে আরেকটি নৌকার সাথে ধাক্কা লেগে তাঁদের নৌকাটি ডুবে যায়। ঘটনার পর নৌকার মাঝি আলমগীরকে আটক করে নৌ পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফখরুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, শীতলক্ষ্যায় নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুটি নৌকার মুখোমুখি সংঘর্ষে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতরা শহরের ডনচেম্বার এলাকার বাসিন্দা।আর কোন লাশ নেই আর কেউ সন্ধানও না করায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার রাতে নৌকা ডুবির ঘটনার পর আজ শনিবার(১৫অক্টোবর) সকালে এই প্রতিবেদক সরেজমিনে ঘাটে গিয়ে
দেখতে পান ক্ষুব্ধ যাত্রীরা অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে নৌকা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।আধঘন্টার মতো এই অচলাবস্থা থাকার পর আবার নৌ চলাচল স্বাভাবিক হয়।মিজান নামের একজন জানান,নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান এ ঘাটে টোল ফ্রি ঘোষণা করেন।
কিন্তু ইজারাদারের মতোই টোল আদায় কক্ষে বসে টোল আদায় করছেন ট্রলার মালিকরা ।তাঁদের ব্যবহারও বেশ রুক্ষ বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। ট্রলারগুলো ৫০/৬০ জন যাত্রী ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন হলেও প্রতি ট্রিপে ঠেসে ঠেসে ৪শ’ থেকে ৫শ’ যাত্রী উঠানো হয় অভিযোগ করেন উপস্থিত অনেক যাত্রী।এ বিষয়ে জানতে তখন তেমন কাউকে পাওয়া যায়নি।সাংবাদিক দেখে তাঁরা সটকে পড়েছে বলে জানান উপস্থিত লোকজন।
ইমা

