প্রিয় মাতৃভূমিকে ব্রিটিশের শাসন থেকে মুক্ত করতে আত্মোৎসর্গকারী বিপ্লবী কন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারসহ বৃটিশ বিরোধী বিপ্লবীদের স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণে রাষ্ট্র ও নগর কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম জেলা নারী মুক্তি কেন্দ্র।
শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রীতিলতার ৯০ তম আত্মাহুতি দিবসের অনুষ্ঠানে সংগঠন নেতৃবৃন্দ এই আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ইউরোপিয়ান ক্লাবকে জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণের জন্য দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও সেটা অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে। যাদের আত্মদান ও সংগ্রামের স্মৃতিতে চট্টগ্রাম ‘বীর চট্টলা’ হয়েছে, সেই চট্টলা আজ তার বীরদের ভুলতে বসেছে, যা লজ্জা ও বেদনার। তরুণ প্রজন্মের সামনে প্রীতিলতাদের সংগ্রামী গৌরবগাঁথা তুলে ধরে,তাদের সেই ঋণ আজ শোধ করতে হবে।
জেলা নারীমুক্তি কেন্দ্র’র আহবায়ক আসমা আক্তারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ সালমা রহমান ও সহকারী অধ্যাপক নিগার সুলতানা, নারীমুক্তি কেন্দ্রের জেলা সদস্য দীপা মজুমদার।
এদিকে বীরকণ্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নানামুখী কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ
নগরীর পাহাড়তলীতে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে শ্রদ্ধা জানান বাসদের নেতাকর্মীরা। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসদ চট্টগ্রাম জেলা ইনচার্জ আল কাদেরী জয়, সদস্য রায়হান উদ্দিন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট জেলার আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন কবির, সদস্য নুরুল হুদা নিপু, নাজিম উদ্দিন বাপ্পী, রেশমা আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নগরের সভাপতি মিরাজ উদ্দিন ও শিক্ষক শফিউল আলম।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশমাতার প্রতি প্রীতিলতার প্রতি গভীর আত্মত্যাগ আমরা যেমন স্মরণ করতে চাই শ্রদ্ধাভরে, তেমনি তার এই লড়াই থেকে আমরা প্রেরণাও নিতে চাই। প্রীতিলতার সামনে সেদিন স্বপ্ন ছিল একটি স্বাধীন, সকলের অধিকার নিশ্চিত হয় এমন একটি ভূখণ্ডের। আজ সেই একই প্রেরণা ও সাহস নিয়ে এই অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।
তাছাড়া পটিয়া উপজেলা বাসদের পক্ষ থেকে প্রীতিলতার জন্মভূমি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাটে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাসদ পটিয়া উপজেলার সদস্য স ম ইউনুস, সেলিম উদ্দিন, মবিনুল হক সাব্বির।
চট্টগ্রাম জেলা ছাত্র ইউনিয়ন
নগরীর পাহাড়তলীতে বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ভাস্কর্যে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছে জেলা ছাত্র ইউনিয়ন। এরপর সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এ্যানি সেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শুভ দেব নাথ, হালিশহর থানার সদস্য অবিনাশ রায়, পাহাড়তলী থানার সদস্য তপন দে, প্রণয়নী ইপা, মুক্তা পাল।
সভায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা বলেন, ‘প্রীতিলতা যখন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নিয়ে আত্মাহুতি দেন, তখন এদেশের মানুষ কেউ চিন্তাও করেনি যে বিপদসংকুল সশস্ত্র বিপ্লবের পথে নারীরা অংশগ্রহণ করতে পারে। ২২ বছর বয়সী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার সংকল্প করেছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেবেন, ভাইদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মানব মুক্তির সংগ্রামে যোগ্য ভূমিকা পালন করবেন। পাহাড়তলী ক্লাব আক্রমণ এবং নির্ভীক চিত্তে মৃত্যুকে বরণ করে প্রীতিলতা একটি ঐতিহাসিক ও কিংবদন্তি চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। তাই নিছক ইতিহাস চর্চা নয়, আজকের সংকট থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন প্রীতিলতাসহ অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের অনুসরণ করে অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করা।
নবপ্রত্যাশা বাকলিয়া
শনিবার সকালে নগরীর পাহাড়তলীতে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আবক্ষ ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচী শুরু করে ‘নবপ্রত্যাশা বাকলিয়া’ নামে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনটি। এসময় রাজনীতিক আনোয়ার হোসেন, আব্দুল হাকিম মেম্বার, ছাত্রনেতা সমর দাশ, জয় দত্ত, আফজাল হোসেন, ইয়াছিন টিপু, আকিব উপস্থিত ছিলেন।
বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদ
বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষে পাহাড়তলীতে আবক্ষ ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর পথসভার আয়োজন করে ‘বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদ’। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিঞ্চণ ভৌমিকের সভাপতিত্বে এতে বাসদ চট্টগ্রাম জেলার ইনচার্জ আল কাদেরী জয়, পরিষদের উপদেষ্টা শিক্ষক বিজয় শংকর চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক তপন ভট্টাচার্য্য ,সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মিরাজউদ্দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক ঋজু লক্ষী অবরোধ , সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের আহবায়ক হেলালউদ্দিন কবির ও সদস্য সচিব সজল শিকদার বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনে একই সূত্রে গাঁথা। বিপ্লবীদের পথ ধরেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, মুজিব শতর্বষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিপ্লবীদের সম্মান দেওয়া হয়নি। আমরা বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মাহতি দিবসকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করার দাবি জাানচ্ছি।
ইউডি

