তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে দুই দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার( ২২শে সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ফতুল্লা রেললাইন বটতলা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আটক গৃহবধূকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত ধর্ষক রনজিত (৩৫)কে আটক করেছে ফতুল্লা থানা পুলিশের একটি দল।
শুুক্রবার( ২৩শে সেপ্টেম্বর) ঐ গৃহবধূ বাদী হয়ে দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখিত বিবরন ও গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আসামী রনজিত পটুয়াখালী জেলার মীর্জাগন্জ থানাধীন পূর্ব সুবিদাখালি গ্রামের সন্জয় হাওলাদারের ছেলে।তবে বর্তমানে সে ফতুল্লা রেললাইন বটতলা এলাকার হাজী অলিউল্লাহর বাসায় ভাড়া থাকে।ঐ গৃহবধূর স্বামীর বাড়ীও পটুয়াখালী জেলার মীর্জাগন্জ থানা এলাকায়।
সন্তানদের নিয়ে তিনি সেখানেই বাস করতেন।তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে যশোরে থাকেন।চলতি বছরের গত ২০শে মার্চ অসুস্থ হয়ে ঐ গৃহবধূ সেখানকার এক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান।চিকিৎসক জরুরী গৃহবধূর শরীরে রক্ত প্রয়োজন জানান।ঐ সময় রনজিত পটুয়াখালী অবস্থান করছিলো।রক্তদান সংগঠন ব্লাড ডোনারের হয়ে সে গৃহবধূকে রক্ত দেয়।গৃহবধূ সুস্থ হলে রক্তদাতাকে কৃতজ্ঞতা জানান।তখন রনজিত ভালো মানুষের বেশ ধরে গৃহবধূর মোবাইল নম্বর নেয়।ঐ গৃহবধূ জানান, তারপর থেকে রনজিত সময়ে অসময়ে কল করে বিভিন্ন অশ্লীল ইঙ্গিতবাহী কথা বলতো।একসময় সে গৃহবধূকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারিরীক সম্পর্কে জড়াতে বলে।প্রতিবারই গৃহবধূ তা প্রত্যাখান করলেও রনজিতের উত্যক্ত করা বাড়াবাড়ি রকমের হওয়ায় তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি পাগলার নন্দলালপুরে বাস করা বাবার বাড়ী চলে আসেন।এই খবর জানতে পেরে গত ২১শে সেপ্টেম্বর বুধবার রনজিত সেখানে গিয়ে ওঠে।
জরুরী কথা আছে বলে গৃহবধূকে নিয়ে ফতুল্লা রেললাইন বটতলা এলাকার ভাড়া বাসায় আসে। তারপর একটি রুমে তাঁকে আটকে রেখে দুই দিন ধরে রনজিত তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষন করে।
ওদিকে মেয়ে বাসায় না আসায় চিন্তিত বাবা-মা মোবাইলে মেয়ের সাথে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করে সংযোগ পাচ্ছিলোনা।শেষে ২২ তারিখ বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সাথে মোবাইলে কথা বলে জানতে পারেন রনজিত তাঁকে আটকে রেখেছে।একথা জেনে তাঁর বাবা ফতুল্লা মডেল থানায় এসে পুলিশকে সব জানালে রাতে পুলিশ ঐ বাসায় অভিযান চালিয়ে গৃহবধূকে উদ্ধার ও রনজিতকে আটক করে।
ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা জানান,গৃহবধূ মামলা করার পর ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য তাঁকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।রনজিতকে ঐ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
ইমা

