হাসপাতালগুলোতে টিকাগ্রহীতাদের ভিড়, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

  |  মঙ্গলবার, আগস্ট ৩, ২০২১ |  ১:২৭ অপরাহ্ণ
????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????
       

চট্টগ্রামের মেমন হাসপাতালসহ ১১টি চিকিৎসাকেন্দ্রে চলছে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকা প্রদান কার্যক্রম। কিন্তু সেখানে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। একদিকে করোনার ভয়াবহ ছোবল, অন্যদিকে টিকা গ্রহণে বয়সসীমা শিথিলের কারণে চট্টগ্রামে প্রতিনিয়তই টিকার চাহিদা বাড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে এ রোগের প্রকোপ কোনভাবেই কমানো সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

আজ মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) সরেজমিনে নগরীর সদরঘাট সিটি কর্পোরেশন জেনারেল হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, টিকাপ্রার্থীরা হাসপাতালের সম্মুখ সড়কের ওপরেই দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। সেখানে সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না । অনেকে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়েছেন টিকাগ্রহীতাদের সারিতে।

এসময় মেমন হাসপাতালে আলাপ হয় টিকা নিতে আসা পশ্চিম মাদারবাড়ির জান্নাতুর রহমানের সাথে। তিনি সিটিজিনিউজকে বলেন, ‘সকাল ৭টায় এসেছিলাম, এখন দুপুর ২ টা বাজছে, কিন্তু এখনও অবধি ভ্যাকসিন নিতে পারি নাই। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়গুলো ভুলে গিয়েছিলাম।’

তাছাড়া সারিতে না দাঁড়িয়েও অনেকে টিকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

একই চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ভোগান্তির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হচ্ছে না অভিযোগ করেছেন সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা একধিক রোগী ও স্বজনেরা।

সদরঘাট থেকে আসা ৭০ বছরের বৃদ্ধ আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমি সুস্থাবস্থায় টিকা নিতে এসেছিলাম, এখনো টিকা নিতে পারি নাই। কিন্তু এখন আমি অসুস্থ বোধ করছি।’

এদিকে টিকা নিতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন অনেকে। এ প্রসঙ্গে আলাপকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধূরী বলেন, ‘চট্টগ্রামে করোনার প্রকোপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে।এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প কিছু নাই। অথচ স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে, কেবল টিকা গ্রহণেই এ রোগে আক্রান্তের হার কোনভাবেই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘৭ আগস্ট থেকে নগরের ওয়ার্ড আর উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা প্রদানের যে প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে তাতে হাসপাতালগুলোর চাপ অনেকটাই কমে আসবে । বর্তমানে অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধদের অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে হাসপাতারগুলোতে টিকা প্রদানে সাময়িক কিছু সমস্যা হচ্ছে । আশা করছি আগামী ৭ তারিখের পর এ চিত্র পাল্টাবে।’