চট্টগ্রামে সাড়ে ৩ মাস পর করোনায় আক্রান্ত শতাধিক

  |  রবিবার, জানুয়ারি ৯, ২০২২ |  ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
       

চট্টগ্রামে সাড়ে ৩ মাস পর করোনাভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা একশ’ পার হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১০৪ জন আক্রান্ত শনাক্ত হন। সংক্রমণ হার ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এ সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে নগরীতে একজন মারা গেছেন।
চট্টগ্রামের করোনা সংক্রান্ত হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রেরিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বেশ ক’বার সংক্রমিতের সংখ্যা একশ’ অতিক্রম করে। অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে একদিনও আক্রান্ত তিন অংকের ঘরে পৌঁছায়নি। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের অধিকাংশ সময় এক অংকের ঘরে ছিল রোগির সংখ্যা। করোনাশূন্য দিনও কেটেছে একাধিকবার।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আজকের রিপোর্টে বলা হয়, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি, এন্টিজেন টেস্ট, শাহ আমানত বিমানবন্দর ও নগরীর দশ ল্যাবে শনিবার চট্টগ্রামের ১ হাজার ৭৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করলে নতুন ১০৪ জন পজিটিভ শনাক্ত হন। এর মধ্যে শহরের বাসিন্দা ৮৮ জন ও উপজেলার ১৬ জন। জেলায় করোনাভাইরাসে মোট শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা এখন ১ লক্ষ ৩ হাজার ৮৪ জন। এর মধ্যে শহরের বাসিন্দা ৭৪ হাজার ৬৬৩ জন ও গ্রামের ২৮ হাজার ৪২১ জন। উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে সীতাকু-ে ৪ জন, ফটিকছড়িতে ৩ জন, রাউজান, হাটহাজারী, সাতকানিয়া ও আনোয়ারায় ২ জন করে এবং বাঁশখালীতে একজন। এ সময়ে করোনায় শহরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা এখন ১ হাজার ৩৩৪ জন হয়েছে। এতে শহরের বাসিন্দা ৭২৪ জন ও গ্রামের ৬১০ জন।
ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, বেসরকারি ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি শেভরনে শনিবার সবচেয়ে বেশি ৪১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এখানে শহরের ১০ জন জীবাণুবাহক পাওয়া যায়। ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে ৩৫৫ টি নমুনা পরীক্ষায় শহরের ১৮ ও গ্রামের ৭ টিতে করোনার জীবাণু থাকার প্রমাণ মেলে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (চমেকহা) ল্যাবে ল্যাবে ২৩ জনের নমুনার মধ্যে শহরের ৭ জন আক্রান্ত শনাক্ত হন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবে ২৭ টি নমুনা পরীক্ষায় শহরের ১ ও গ্রামের ২ টিতে করোনাভাইরাস চিহ্নিত হয়। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ৬৪ জনের নমুনার মধ্যে শহরের একজনের দেহে জীবাণুর অস্তিত্ব ধরা পড়ে। নগরীর বিশেষায়িত কোভিড চিকিৎসা কেন্দ্র আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আরটিআরএলে পরীক্ষিত ৩০ টি নমুনায় শহরের ৯ টির পজিটিভ রেজাল্ট আসে। বেসরকারি ল্যাবরেটরি ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ২২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করলে শহরের ৭ ও গ্রামের ২ জনের শরীরে জীবাণুর অস্তিত্ব মিলে। আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ১৮৭ টি নমুনায় শহরের ২ টিতে ভাইরাস শনাক্ত হয়। মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল ল্যাবে ৮৩ টি নমুনা পরীক্ষা করে শহরের ৫ টিতে ভাইরাস পাওয়া যায়। এপিক হেলথ কেয়ারে ৩০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে শহরের ৩ জনের দেহে সংক্রমণ চিহ্নিত হয়। সেপশালাইজড এশিয়ান হাসপাতাল ল্যাবে ৪৮ টি নমুনা পরীক্ষায় শহরের একটির পজিটিভ রেজাল্ট আসে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপিত ল্যাবে ১৮৯ বিদেশগামীর নমুনায় শহরের ৪ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হন।
নমুনা সংগ্রহের বিভিন্ন কেন্দ্রে ৯০ জনের এন্টিজেন টেস্ট করা হয়। এতে শহরের ২০ ও গ্রামের ৫ জন সংক্রমিত বলে জানানো হয়।
এদিন, ল্যাব এইড ও মেট্রোপলিটন হাসপাতালে কোনো নমুনা পরীক্ষা হয়নি। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবেও চট্টগ্রামের কোনো নমুনা পাঠানো হয়নি।
ল্যাবভিত্তিক রিপোর্ট বিশ্লেষণে সংক্রমণ হার নির্ণিত হয়, শেভরনে ২ দশমিক ৪৩, বিআইটিআইডি’তে ৭ দশমিক ০৪, চমেকহা’য় ৩০ দশমিক ৪৩, চবি’তে ১১ দশমিক ১১, সিভাসু’তে ১ দশমিক ৫৬, আরটিআরএলে ৩০, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ৩ দশমিক ৯৪, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ১ দশমিক ০৭, মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ৬ দশমিক ০২, এপিক হেলথ কেয়ারে ১০, সেপশালাইজড এশিয়ান হাসপাতালে ২ দশমিক ০৮ ও শাহ আমনত বিমান বন্দর ল্যাবে ২ দশমিক ১১ শতাংশ এবং এন্টিজেন টেস্টে ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।