পটিয়া আশিয়া ইউপি নির্বাচন

নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান হতে চান আইয়ুব আলী চৌধুরী

গ্রামের পাড়া মহল্লায় দিন-রাত চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যাপক প্রচারণা

 নিজস্ব প্রতিবেদক |  শুক্রবার, নভেম্বর ১২, ২০২১ |  ১২:০০ অপরাহ্ণ
       

আসন্ন পটিয়া উপজেলার ০৮ নং (ক) আশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামতে চান আশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এলাকার দীর্ঘদিনের আওয়ামী রাজনীতির পরীক্ষিত মুখ, শিক্ষানুরাগী জননেতা আইয়ুব আলী চৌধুরী। ইতোমধ্যে তিনি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের পাড়া মহল্লায় দিন-রাত নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আশিয়া এলাকার লোকজন জানান, দলমত নির্বিশেষে ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের মুখে সমাজসেবক আইয়ুব আলী চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্যভাবে শোনা যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সর্বাগ্রে তার নাম বেশি শোনা যাচ্ছে। প্রচার প্রচারণায়ও এগিয়ে আছেন তিনি। এলাকাবাসী জানান, আশিয়া ইউপি নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সমাজসেবক আইয়ুব আলী চৌধুরী। এছাড়া চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার গরীব-দুঃখী মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। কাজেই আশিয়া ইউনয়নের সাধারণ জনগণ নৌকার মনোনয়নে তার মত একজন সৎ, যোগ্য ও ত্যাগী ব্যক্তিকেই চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান।
এদিকে আওয়ামীলীগ নেতা আইয়ুব আলী চৌধুরী আশিয়া ইউনিয়নে রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানে তদারকি, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও অসহায় গরীব-দুঃখীদের পাশে থেকে উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এই নেতা রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার বহু সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। শুধু তাই নয় ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী আলহাজ¦ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে কাজ করতে গিয়ে নির্ঘুম অফিস পাহাড়া দিয়েছেন। এছাড়া ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত স্বৈরচারিনী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে রাজপথে আন্দোলন করেছেন। তিনি ২০০১ সালে নির্বাচনে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের কর্মীদের উপর নির্যাতন হামলা চালালে তিনি সেসময় ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের রোষানলে পড়েন।
আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলী চৌধুরী ১৯৬৭ সালের ১ মার্চ পটিয়া আশিয়া ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মুরহুম আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী এবং মাতা মরহুমা ইসলাম খাতুন। তিনি ১৯৯০ সালে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয় নিয়ে এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন। তার প্রয়াত স্ত্রী হোসনে আরা বেগমও ছিলেন অর্থনীতিতে এম.এ ডিগ্রিধারী। ব্যক্তিগত জীবনে আইয়ুব আলী চৌধুরী এক ছেলে এক কন্যা সন্তানের জনক। একজন শিক্ষিত এবং এলাকার জনদরদী মানুষ হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে আইয়ুব আলী চৌধুরীর। আশিয়া ইউনিয়নে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোতে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার প্রদত্ত বছরের প্রথমদিনে বই উৎসবের তদারকি ও শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সাথে সাথে মতবিনিময় করে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। তিনি চট্টগ্রাম শহরের কাজেম আলী স্কুল এন্ড কলেজে অভিভাবক সদস্য হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পরিচালনা পরিষদের সাথে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।
এদিকে ইউনিয়নের ৫ নং মির্জা পাড়ায় ৮টি পুকুরের রিটানিং ওয়াল নির্মাণ কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি কর্তৃক বিভিন্ন উপহার সামগ্রী যথাযথভাবে জনগনের কাছে পৌছে দেয়ার লক্ষে কাজ করেছেন। এছাড়া আইয়ুব আলী চৌধুরী ১৯৮০ সালে আশিয়া ইউনিয়নে শাপলা কুড়ি আসরের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৮১ সালে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৮২-৮৩ সালে আশিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৮৩-৮৪ সালে হুলাইন ছালেহ নুর কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৮৯-৯০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করতে মঞ্জুর আলম শাহীন ও অনুপ খাস্তগীরের নেতৃত্বে কাজ করেছেন।
আশিয়া ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ানম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আইয়ুব আলী চৌধুরী বলেন, আমি ছাত্র জীবন থেকে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করে বিগত ১৮ বছর ধরে আশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। এলাকার মানুষ আমাকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য যে আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং আমাকে নানাভাবে পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে সেজন্য আমি এলাকাবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদি। নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি ইউনিয়নের সকলকে সাথে নিয়ে এলাকায় উন্নয়নের কাজ করে যাবো। পাশাপাশি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ করে আশিয়া ইউনিয়নকে সারাদেশে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবো।