রেলের নতুন ইঞ্জিন বিকল: থেমে গেল চট্টগ্রাম মেইল’ট্রেনের যাত্রা

 বশির আলমামুন |  শুক্রবার, অক্টোবর ৮, ২০২১ |  ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
       

প্রথম যাত্রাতেই নতুন ইঞ্জিন (৩০০৩) সংযুক্ত ‘চট্টগ্রাম মেইল ট্রেন’ বিকল হয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে তেজগাঁও স্টেশনে এটি বিকল হয়ে যায়। প্রশ্ন উঠেছে, চুক্তি অনুযায়ী যন্ত্রাংশ সংযোজন না করে ৩২৩ কোটি টাকায় কেনা এই ইঞ্জিনগুলোর মান নিয়ে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম কোম্পানি থেকে ১০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারে কিনেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ।
এদিকে ট্রেন বিকল বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক হাসান মনসুর বলেছেন, চুক্তির সঙ্গে নতুন (৩০০৩) ইঞ্জিনের সম্পর্ক নেই। ট্রেনের ১৬ এবং ২৫১ নম্বরের বগির ভ্যাকুয়াম সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এর সঙ্গে ইঞ্জিন ভালো-খারাপ হওয়ার সম্পর্ক নেই। ৫ ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করে ভ্যাকুয়াম ‘কাট’ করে ‘চট্টগ্রাম মেইল’ ট্রেন কমলাপুরে আনা হয়। এরপর ৩০০৩ ইঞ্জিন দিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে আরেকটি ট্রেন রওনা করে সন্ধ্যা ৬টার দিকে। ওই ট্রেন চলাচলে কোনো সমস্যা হয়নি।
সূত্র জানায়, ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ প্রতিটি ইঞ্জিনের দাম প্রায় ৪৩ কোটি টাকা। করোনার কারণে ইঞ্জিন দেশে আনার আগে প্রাক-জাহাজীকরণ পরিদর্শন (প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন) হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী ইএমডিএস-৮-৭১০জি৩বি-টি১ মডেলের ইঞ্জিন সংযোজন করার কথা। দেশে আনার পর দেখা যায়, দেওয়া হয়েছে ইএমডিএস ৮-৭১০জি৩বি-ইএস মডেল। টিএ১২-সিএ৯ মডেলের অল্টারনেটর সংযোজনের শর্ত থাকলেও দেওয়া হয়েছে টিএ৯-১২সিএস৯এসই মডেলের। এ২৯০৯-৯ মডেলের ট্রাকশন মোটর সংযোজনের শর্ত ছিল। কিন্তু দেওয়া হয়েছে ২৯০৯ মডেলের ট্রাকশন মোটর। লোড বক্সসহ ১১ ধরনের যন্ত্রাংশ দেওয়া হয়নি। ইঞ্জিনের সক্ষমতা পরীক্ষায় লোড বাক্স আবশ্যিক যন্ত্র। অভিযোগ রয়েছে, লোড বক্স না দেওয়ায় ইঞ্জিন কখনোই পুরোপুরি পরীক্ষা করা যায়নি।
রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী বলেন, চট্টগ্রাম মেইল ঢাকায় আসার পথে গতকাল বৃহস্পতিবার তেজগাঁও স্টেশনে বিকল হয়ে পড়ে।
এদিকে রেলের সূত্র জানায়, চুক্তি অনুযায়ী যন্ত্রাংশ না থাকায় ইঞ্জিনের ক্রুটি রয়েছে। প্রকল্পের আগের পরিচালক এ কারণে ইঞ্জিনগুলো গ্রহণ করতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু রেলমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ইঞ্জিনগুলো খালাস করা হয়। দুর্নীতির অভিযোগ তোলার কারণে প্রকল্প পরিচালককে বদলি করা হয়। প্রায় এক বছর চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে নানা রকম পরীক্ষা এবং বসিয়ে রাখার পর গত ৩ অক্টোবর থেকে চলতে শুরু করে ইঞ্জিনগুলো।