রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠে বিশাল জনসভায়

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে আবারও নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

 ঢাকা ব্যুরো |  রবিবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৩ |  ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
       

উন্নয়নের জয়যাত্রা অব্যাহত রেখে ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট চাইলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার(২৯জানুয়ারি) বিকেলে রাজশাহী মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জনসভায় উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের এ জয়যাত্রা, ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ যেন গড়তে পারি আপনারা সেই জন্য নৌকায় ভোট দেবেন।

তিনি আরও বলেন, গত নির্বাচনে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আবারও আপনাদের আহ্বান করবো আগামী নির্বাচনে এ বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের শুরুতে; আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন কিনা ওয়াদা চাই। এ সময় মাঠে স্লোগান দিয়ে নেতাকর্মীরা ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

তিনি বলেন, বিএনপি নাকি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করবে। কাকে নিয়ে? এসময় তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা ও তারেক টাকা পাচার করেছেন, তারা দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। তাদের নিয়ে বিএনপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করবে।

প্রধানমন্ত্রীবলেন, বিএনপি নেতারা বলেন আওয়ামী লীগ নাকি পালানোর জায়গা পাবে না। এমন কথার উত্তরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না। আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই করে, আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। আপনারা বিএনপি-জামায়াত শাসনের কথা চিন্তা করুন। সে সময় তারা নিয়মিত জনগণের ওপর অত্যাচার করত। নৌকায় ভোট না দিলে দেশ স্বাধীন হতো না।

শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। বিদেশে থাকায় আমরা দুই বোন বেঁচে যাই। আমি জিয়াউর রহমানের ষড়যন্ত্র রুখে শুধু দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে আসি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া কেউ এদেশের মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা দেয়নি। আওয়ামী লীগ আজ দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে। বিএনপি বলে ক্ষমতা গেলে পালানোর সুযোগ পাবেন না। আমি বলতে চাই, আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না। পালায় আপনাদের নেতারাই। যেই নেতা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মুচলেকা দিয়ে দেশ থেকে ভেগে গিয়েছিল, সেই দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত নেতা আজ বড় বড় কথা বলে। বিএনপি-জামায়াতের পাচার হওয়া ৪০ কোটি টাকা দেশে ফেরত আনা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এ রাজশাহী সব সময় অবহেলিত ছিল। বিগত মেয়র নির্বাচনে আপনারা আমাদের ভোট দিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের জয়যুক্ত করেছেন। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয় মন্তব্য করে দলটির সভাপতি বলেন, এ সংগঠন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন। এ সংগঠন যখনই ক্ষমতায় এসেছে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে।

টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। যেখানে ৪০ ভাগ দারিদ্র সীমা ছিল, আমরা ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ সমস্ত ভাতা আমরা দিয়ে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। কোনো মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

রাজশাহীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের হোটেল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাহলে আমরা এখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করতে পারবো।

সরকারপ্রধান বলেন, রাজশাহী সারাজীবন অবহেলার ছিল। আপনারা এখানে নৌকায় ভোট দিয়েছেন। আমরা উন্নয়ন করেছি। রাজশাহীতে ১০ হাজার ৬৬০ কোটি টাকার উন্নয়ন করা হয়েছে। রাজশাহীতে ৪ হাজার কোটি টাকার কাজ চলছে। আজ যে কাজগুলো উদ্বোধন করা হলো এগুলো রাজশাহীবাসীকে আমার উপহার।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সভাপতিম-লীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, তথ্য মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা।

সকাল থেকে জনসভা মাঠে জড়ো হন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাজশাহী মাদরাসা মাঠের বাইরে আশপাশের এলাকাগুলোতেও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।