৪৫০ কোটি ডলার ঋণ প্রস্তাব

আইএমএফের বোর্ড সভায় উঠছে কাল

 ঢাকা ব্যুরো |  রবিবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৩ |  ১০:৪০ অপরাহ্ণ
       

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) আগামীকাল সোমবার তার বোর্ড সভায় ডলারের ঘাটতি এবং অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি বাংলাদেশের জন্য প্রস্তাবিত ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইএমএফের একজন মুখপাত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফের সদর দফতরে এদিন বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় বৈঠক শুরু হবে। আইএমএফ সরকারের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষার ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের তার এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি, এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি এবং নতুন আইএমএফ রেজিলিয়েন অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি নিয়ে ইতিমধ্যেই নভেম্বরে ঢাকায় আইএমএফ স্টাফ পর্যায়ে সফর কালে একটি প্রাথমিক চুক্তি করেছে। সম্প্রতি এই ঋণের জন্য আইএমফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্তইনেত মনসিও সায়েহ বাংলাদেশ সফরে দেশের বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন।

তিনিও বলেছে, আইএমএফ বোর্ড ৩০ জানুয়ারি ঋণটি বিবেচনা করবে। জুলাই মাসে, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি পণ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস আমদানিতে বাধা সৃষ্টিকারী বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি মোকাবেলায় আইএমএফের কাছে ঋণ চেয়েছিলেন। আমদানি খরচ মেটানোর জন্য বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ হাজার ২২৯ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ৪৫০ কোটি ডলার ঋণের শর্ত পূরণ করুক। তবে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন আইএমএফ ঋণ অনুমোদন করবে কারণ সরকার ইতিমধ্যে জাতীয় বাজেটে ভর্তুকি কমাতে জ্বালানি সামগ্রীর দাম বাড়িয়েছে, যা ছিল ঋণের প্রধান শর্ত। ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ৪৮ হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা করা সত্বেও গত বছরের আগস্টে সরকার জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে।

চলতি মাসেই নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে সরকার। আইএমএফ বোর্ড ঋণের সম্ভাব্য অনুমোদনের ফলে দেশ ফেব্রয়ারিতে ৪৪ কোটি ৭০ লাখ ডলারের প্রথম ধাপ পেতে সক্ষম হবে। বাকি ঋণ আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রতি ছয় মাসের ব্যবধানে ছয় ধাপে বিতরণ করা হবে যার জন্য সরকারকে ব্যাংকিং, রাজস্ব, বিনিময় এবং ঋণের হারে সংস্কার করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের হিসাব করতে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে সম্মত হয়েছে। ইতোমধ্যে আইএমএয়রে ঋণের র্শত বাস্তবায়নের জন্য অর্থবিভাগ ২২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়ছে।
এর আগে ২০১২ সালে সরকার আইএমএফ থেকে ঋণ পায়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল প্রায় ১০০ কোটি ডলার মূল্যের বর্ধিত ক্রেডিট সুবিধা প্রদান করেছে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঋণ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ দফায় জ্বালানি তেলের দাম এবং আট দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার।