সন্দ্বীপে খাদ্যগুদামের সকল খাদ্য একা খাওয়ার ফন্দি আটলেন ওসিএলএডি মাইফুল ইসলাম

 বাদল রায় স্বাধীন |  বুধবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ |  ১১:২১ পূর্বাহ্ণ
       

সন্দ্বীপে মাত্র দুই মাস আগে যোগদান করলেন খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্দ্বীপ এলএসডি,চট্টগ্রাম মোঃ মাইফুল ইসলাম।আর আসা মাত্রই খাদ্য গুদামের সকল খাদ্য একা খাওয়ার সব ব্যবস্থা করে ফেললেন তিনি। এমন অভিযোগ সন্দ্বীপের বিভিন্ন চাল ব্যবসায়ীদের।সন্দ্বীপে এসে সকল চাল ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে তিনি ভেবে নিলেন সকলে তার কাছে পুটিমাছ, তাই তিনি বোয়ালের মতই হা করা শুরু করে দিলেন ।সন্দ্বীপে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বরাদ্ধকৃত সকল টিআর, কাবিখার চাল তিনি ছাড়া কেউ কিনতে পারবেনা এমন ঘোষনা দিয়ে দিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, সে সকল চাল চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ খাদ্য গুদামে না ঢুকিয়ে তা চট্টগ্রামেই বিক্রি করে ফেলার সব ব্যবস্থা ফাইনাল করে নিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে যারা যারা টিআর, কাবিখার চাল বরাদ্ধ পেয়েছেন তাদের কাছে চাল কিনতে গিয়ে সব ব্যবসায়ীরা শুনছেন একটি কথা, মানে সবার বক্তব্য সকল চাল ওসি এলএসডির কাছে বিক্রি করতে হবে এমনটা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন নির্বাহী খাদ্য কর্মকর্তা মাইফুল ইসলাম। এমন ঘটনায় খুবই বিব্রত ও হতাশ হয়েছেন প্রায় ২০ জন ব্যবসায়ী।তারা এখন যাদের কাছে আগে চাল কেনার জন্য টাকা অগ্রিম প্রদান করেছেন তাদের থেকে টাকা না পাওয়ার সম্ভাবনায় আরো বেশি হতাশ।

অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৪জন ব্যবসায়ী বলেন এই ওসি এলএসডি আসার পর থেকে প্রতি টন চাল ছাড়াতে গিয়ে তাকে দিতে হয় ১৭৫০ ( এক হাজার সাতশত পঞ্চাশ) টাকা, আবার ডিও প্রাপ্তদের থেকে নেন ৬ (ছয়) শত টাকা করে। টনপ্রতি তার পকেটে ঢুকে ২৩৫০( দুই হাজার তিনশত পঞ্চাশ) টাকা। শুধু তাই নয় প্রতিটনে আবার কমপক্ষে ত্রিশ কেজি চাল কম নিতে হয় তাদের, কিন্তু লিখিত দিয়ে আসতে হবে সমপরিমান চাল বুঝে পেয়েছেন। পাশাপাশি তার নির্দেশনা মতে টাকা দিতে হয় আরো বিভিন্ন জায়গায় যেমন টন প্রতি থানায় ২শ,এক যুবলীগ নেতাকে ২শ, ক্লিনারকে ২৫০ টাকা করে। একজন ব্যবসায়ী তার তিন টন চাল মেপে কাগজে যে হিসাব মেলালেন তার পুংখানুপুন্খ হিসাব দেখে প্রমান মেলে যে ৩ টন চালের মধ্যে তিনি বুঝে পেয়েছেন ২৯৩৯ কেজি ৫শ গ্রাম,সে হিসাব মাইফুল ইসলামকে দেখানোর পর সে এক ঝটকায় সে কাগজ কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে দিলেন,লোপাট করতে চাইলেন সে প্রমান।অবশ্য তার আগে সে ব্যবসায়ী সেটার ফটোকপি করে রেখেছেন সেটা সে জানতোনা। তার এ দুঃসাহসী মনোভাবে ঐ ব্যবসায়ী হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। তার ভাষ্যমতে এমন বেয়াদব, জাদরেল অফিসার আমরা জীবনেও দেখিনি।

এক জন খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার এমন খাই খাই মনোভাব দেখে ক্ষুদ্ধ সকল চাল ব্যবসায়ীরা। তবে তাদের দুর্বল করতে সে আবার অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে স্থানীয় এমপি ও এমপির পিএস এর নাম।কিন্তু ব্যবসায়ীরা তার সে কথা বিশ্বাস করতে না পেরে সেটার সত্যতা জানতে এবং প্রতিকার চেয়ে ছুটে গেলেন মেয়র মোক্তাদের মাওলা সেলিম ও এমপি মাহফুজুর রহমান মিতার কাছে। কিন্তু ওনারা সন্দ্বীপে না থাকায় তারা এখন ওসি এলএসডি মাঈফুলের চাওয়াটাকে প্রাধান্য দিয়ে আপাতত চুপসে থাকলেও সবার ভিতরে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা এ প্রতিবেদককে বলেন আমরা দ্রুত তার অনিয়ম ও সন্দ্বীপের খাদ্য সন্দ্বীপে না এনে বাইরে থেকে বিক্রি করে পরিবহন খরচ নিজের পকেটস্থ করা ও তার স্বৈরতান্ত্রিব মনোভাবের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ সহ তাকে দ্রুত অপসারনের জন্য আন্দোলনের কর্মসুচী ঘোষনা করবো। আমরা এমন দুর্নীতিগ্রস্থ অফিসারকে দ্রুত কাটগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা সহ উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ ব্যাপারে ওসি এলএসডির নাম্বারে ফোন করে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ একবাক্যে অস্বীকার করে বললেন এ-সবের কোন ঘটনাই ঘটেনি।

খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন আমি এ সব অনিয়মের কিছুই জানিনা।তবে আমি খোঁজ খবর নিয়ে সব অনিয়ম দূর করবো। কোন অনিয়ম আমি সাপোর্ট করিনা। তবে যদি এসব অনিয়ম হয়ে থাকে তার সকল দায়ভার সব ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার।