পুলিশ সোর্সের হাতে সোর্স খুন, গ্রেপ্তার ৬

 নিজস্ব প্রতিবেদক |  মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৪, ২০২৩ |  ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
       

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার মইজ্জারটেক এলাকায় ২০ জানুয়ারি বিকালে খুন হন মোহাম্মদ কায়েস। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

ডিবি বলছে, কায়েস আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘সোর্স’ ছিলেন। মাদক কারবারির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তার সঙ্গে আরেক সোর্সের দ্বন্দ্ব হয়। সেই জেরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপর কয়েকজন সোর্সের হাতে খুন হন কায়েস।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর ডিবি (বন্দর ও পশ্চিমের) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আলী হোসেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন, হুমায়ুন কবির মাসুদ, মো. খোকন, রফিকুজ্জামান সানি, নজরুল ইসলাম, মো. রায়হান ও আব্দুল কাদের জীবন।

ডিবির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, ‘কায়েস হত্যায় জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে টানা ২২ ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছে ডিবি। কায়েস নিজে একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স ছিলেন। তাকে হত্যায় গ্রেপ্তার সবাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স।’

তবে কায়েস ও হত্যাকারীরা কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনের বিস্তারিত জানাননি ডিবির এই কর্মকর্তা।

গত ২১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মইজ্জারটেক সিডিএ আবাসিক এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে মোহাম্মদ কায়েসের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিজ এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। এ ঘটনায় ২২ জানুয়ারি অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে হত্যা মামলা করেন তার বাবা আবু তাহের।

কায়েস হত্যার কারণ সম্পর্কে গ্রেপ্তারদের বরাতে পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, ‘এক মাদক কারবারির তথ্য সংগ্রহ করতে চার মাসে একসঙ্গে রাঙামাটি যান কায়েস ও হুমায়ুন কবির। দ্বিতীয় দফায় হুমায়ুন কবির সেখানে একা যান। তখন কারবারিরা তাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টা করে। পাশাপাশি তাকে কারবারিরা জানায়, তাদের কায়েস জানিয়েছে হুমায়ুন পুলিশের সোর্স। সে ক্ষোভ থেকে কায়েসকে হত্যার পরিকল্পনা করেন হুমায়ুন।’

তিনি বলেন, কায়েসকে হত্যা করতে গ্রেপ্তার বাকিদের সঙ্গে এক লাখ টাকার চুক্তি করেন হুমায়ুন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে চারটায় কায়েসকে মইজ্জারটেক এলাকায় ডেকে আনেন তারা। সেখানে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।’