১৩০ বছর ধরে রসের সিন্নি রান্না করে বিতরণ করা হয় সীতাকুণ্ডের একটি গ্রামে

 কামরুল ইসলাম দুলু |  রবিবার, জানুয়ারি ২২, ২০২৩ |  ১২:২৩ অপরাহ্ণ
       

গ্রামের গাছিরা একটি দিন কেউ রস বিক্রি করে না। ঔই দিন ভোর থেকে গাছিরা শত শত কেজি রস নিয়ে রাখেন এক জায়গায়। সেই রস দিয়ে রান্না হয় রসের সিন্নি। আর সেই সিন্নি খাওয়ানো হয় গ্রামের হাজারো মানুষকে। এভাবেই ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে প্রায় একশত ৩০ বছর ধরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের উত্তর ভাটেরখীল গ্রামে।

ওই গ্রামের বেশ কয়েকজন বয়োবৃদ্ধ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৩০ বছরেরও আগে কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে যখন গ্রামের অনেক মানুষ মারা যাচ্ছিল তখন কেউ একজন স্বপ্ন দেখেন যে, ওই এলাকার এক কবরস্তানের পাশে সিন্নি রান্না করে সবাইকে খাওয়ালে এই মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তবে এই সিন্নি আল্লাহর ওয়াস্তে দিতে হবে এবং স্বেচ্ছায় সিন্নি রান্নার কাজে সবাই সহযোগিতা করবেন। কারো থেকে জোরপূর্বক কোন টাকা পয়সা নেওয়া যাবে না। সেই থেকে শুরু। সিন্নি রান্নার আগে মসজিদে ধারাবাহিকভাবে খতম পড়ানো হয়। স্বেচ্ছায় গ্রামের মানুষরা সিন্নি রান্নার কাজে সহযোগিতা করেন।

গ্রামের তিন থেকে চার হাজার মানুষ ছোট, বড়, আবাল বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ সিন্নি খেতে আসেন। গ্রামের ৮৯ বছরের বৃদ্ধ আজমত উল্লাহ বলেন, বহু বছর ধরে এই রেওয়াজ চলে আসছে, যুগ যুগ ধরে চলবে এটা। আবদুর করিম(৬৫) বলেন, আমি আমার জ্ঞান হওয়ার পর দেখে আসছি আমাদের গ্রামে এ আয়োজন। শুনেছি আমার বাপ দাদারাও গ্রামে একদিন সিন্নি রান্না করে পুরো গ্রামের মানুষদের খাওয়াতেন। এটার নাম ছিল ডেক রান্না।

গ্রামের সর্দার মোঃ ইউছুফ বলেন, এখানে একটা বট গাছ আছে পুরানো, মুলত এ বট গাছকে ঘিরে আজ থেকে ১৩০/ ১৪০ বছর আগে স্বপ্ন দেখে গাছের নিচে সিন্নি রান্না করে খাওযানো হতো। তখন প্রায়ই গ্রামে কলেরা রোগ আসতো। তেমন ডাক্তার ছিলনা। নিয়ত করে সিন্নি খেলে রোগ ভালো হতো। সেই সময়ে বট গাছের ডেট বলা হতো। যুগ যুগ ধরে একই নিয়মে এই আয়োজনটা গ্রামের মানুষ পালন করে আসছে। মোঃ এচাক মিয়া(৭০) বলেন, আমি আমার বাপ দাদাকেও দেখেছি সিন্নি রান্না করে খাওয়ানোর, তবে এই আয়োজন কখন থেকে শুরু তার সঠিক হিসাব কারো মনে নেই। কেউ বলেন ১৩০ বছর কেউ বলেন ১৫০ বছরেরও বেশী। আমরাও একদিন চলে যাবো আমাদের গ্রামের এই রেওযাজ ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে।